English Version
আপডেট : ২৮ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৫৮

মসজিদের সিন্দুকে এত টাকা

অনলাইন ডেস্ক
মসজিদের সিন্দুকে এত টাকা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকে জেলার সবচেয়ে বিত্তশালী মসজিদ হিসেবে মনে করা হয়। কারণ এই মসজিদে মানুষ দুই হাত খুলে দান করে। শুধু মুসলমানরা নয়, অন্যান্য ধর্মের লোকজনকেও এ মসজিদে দান করতে দেখা গেছে।

লোকজনের বিশ্বাস, কোনো আশা নিয়ে একনিষ্ঠ মনে এ মসজিদে দান করলে আল্লাহ তার দান কবুল করেন। তাই প্রতি মাসে কেবল দান থেকেই এ মসজিদের নগদ আয় হয় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। শুধু দেশি টাকা নয়, বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণলংকারও দান করে লোকজন। প্রতি তিন মাস পর মসজিদের সিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুক খুললে প্রতিবারেই কোটি টাকার উপরে পাওয়া যায়। শনিবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম হায়দার ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মসজিদের সব সিন্দুক খোলা হয়। পুরো টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকি করেন নির্বাহী হাকিম আবু তাহের সাঈদ। গতকাল রবিবার এ বিষয়ে আবু তাহের সাঈদ বলেন, ‘সাধারণত তিন মাস পর পর মসজিদের ভল্ট খোলা হয়।

এতে নগদ এক কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। সোনা, রূপার পরিমাণ এখনো মাপা হয়নি। এ ছাড়া বেশ কিছু মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুরি ডলার,  সৌদি রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পাওয়া গেছে।   সেগুলো এখনো ভাঙানো হয়নি। প্রতিবার কোটি টাকার উপরে পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, এই মসজিদের যখন ভল্ট খোলা হয়, তখন সাধারণত এক কোটি টাকার কাছাকাছি পাওয়া যায়। এবার সবচেয়ে বেশি টাকা পাওয়া গেছে। মসজিদের সিন্দুক খোলা ও টাকা গণনা করারও একটি উপ-কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সদস্য সাইফুল হক মোলস্না দুলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কমিটির লোক দিয়ে হয় না। টাকা গণনা করতে পাশের মাদ্রাসার ছাত্রদেরও লাগানো হয়। সারাদিন লেগে যায় টাকা গুনতে। এ এক এলাহী কাণ্ড।

হারম্নয়া এলাকার আবদুল আলী বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের ভক্তি অন্যরকম। কোনো সমস্যা ও সঙ্কটে পড়লেই মানুষ এ মসজিদে মানত করে। নিশ্চয়ই মানুষ এ মসজিদের দান করে শান্তি পায়। মসজিদটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (পদাধিকারবলে) মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস আর সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মাজহারুল ইসলাম ভুঁইয়া কাঞ্চন।