English Version
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৬:০৭

কবরে জানালা! ভিডিও দেখুন?

অনলাইন ডেস্ক
কবরে জানালা! ভিডিও দেখুন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেরমন্টের নিউ হ্যাভেন শহরের এভারগ্রিন সেমেটারিতে এই কবরটি অনেকের কাছেই দ্রষ্টব্য বস্তু। না, কোনও অসামান্য সমাধি-ভাস্কর্যের কারণে এটি পর্যটকদের আকর্যণ করে না। অতি সাদামাঠা এই কবরের বিশেষত্ব একটাই-এই কবরে রয়েছে একটি স্পষ্ট জানলা।

কবর, যা কি না মৃত মানুষের আশ্রয়স্থল, সেখানে জানলা কোন কাজে আসে-এই প্রশ্ন সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে প্যারানর্মাল ওস্তাদ, সবাইকেই ভাবায়। চতুষ্কোণ কবরের বুকে কাচ লাগানো এই জানলায় চোখ রাখলে কী দেখা যায়, তা নিয়ে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য আরবান লিজেন্ড। অনেকেই ভূতের গল্প বানিয়ে তাকে ভাইরাল করে ছেড়েছেন। রাশি রাশি ভিডিও তুলে আপলোড করেছেন অনেকেই ইউটিউবে।

কী ইতিহাস এই কবরের? খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, ১৯ শতকে পশ্চিমে বহু মানুষকেই ভুল করে জ্যান্ত কবর দিয়ে দেওয়া হত। সেই থেকে জন্ম নেয় এক আশ্চর্য মনোরোগ, যার কেতাবি নাম ‘টাফেফোবিয়া’। এই রোগে আক্রান্তদের বার বার মনে হতে, তাদের জীবন্ত অবস্থায় কবর দেওয়া হবে। এই ভয়কে মূলধন করেই এডগার অ্যালান পো রচনা করেন একের পরে এক অসামান্য হরর কাহিনি। ১৯ শতকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন টিমথি ক্লার্ক স্মিথ নামে জনৈক চিকিৎসক। তিনি সর্বদাই ভয় পেতেন জীবন্ত কবরের। সেই কারণেই তিনি তাঁর কবরের এমন একটা নকশা বানান, যাতে জানলা রয়েছে।  তার পরে তিনি ওই কবরের নীচ পর্যন্ত একটা সিঁড়িও রাখেন। এবং ইচ্ছাপত্রে উল্লেখ করেন, তাঁকে যেন একটা ঘণ্টা ও একটা ব্রিডিং টিউব-সহ কবর দেওয়া হয়। জানলাটিকে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে কেউ তা দিয়ে উঁকি দিলে তাঁর মুখটিই সবার আগে চোখে পড়বে।

১৮৯৩ সালে টিমথি মারা যান। এবং তাঁর ইচ্ছাপত্র মেনেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়। এমন আজব এক কবরকে ঘিরে দ্রুত ছড়াতে থাকে মিথ। টিমথি কবর থেকে বেরিয়া এসে ঘোরাঘুরি করেন, এমন আজগুবি কথা হাওয়ায় ভাসতে থাকে। প্যারানর্মালবাদীরা পল্লবিত করেন টিমথির আখ্যানকে। আজ এই কবরের জানলায় চোখ রাখলে কয়েক ইঞ্চি দেখা যায়। শ্যাওলা ও ময়লায় বাকিটা ঝাপসা।