English Version
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৩

ফেরিওয়ালার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ টাকা লেনদেন!

অনলাইন ডেস্ক
ফেরিওয়ালার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ টাকা লেনদেন!

পথে ঘাটে ধূপকাঠি ফেরি করে  কোনও রকমে দিন গুজরান করেন তিনি। মাস গেলে রোজগার মেরে কেটে হাজার তিন-চারেক টাকা। সেই তাঁর অ্যাকাউন্টেই কিনা ৫৫ লাখের বেশি টাকার লেনদেন!

হয়তো জানতেই পারতেন না সাঁইথিয়ার নেতাজি পল্লির যুবক তাপস গুহ। কিন্তু, হঠাৎ আয়কর দফতরেরর নোটিস পেয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজ নিয়েই তাপসের মাথায় হাত! গিয়ে দেখেন, সত্যিই তাঁর নামে ওই ব্যাংকে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তা থেকে ওই পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে। 

এর পরেই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে  মামলা ঠুকেছেন ওই যুবক। তাঁর অভিযোগ, তাঁরই নথি ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন হয়েছে ওই ব্যাংকে।  

ওই যুবকের দাবি, ২০১১-র নভেম্বরে ওই ব্যাংকের সাঁইথিয়া শাখার কিছু কর্মী তাঁর কাছে অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ছবি-সহ প্রয়োজনীয় নথি ওই কর্মীকে দিই। তিনি নিজের মোবাইলে নথির ছবি তোলেন। 

তার পরেই ওই কর্মী আমাকে জানান, অ্যাকাউন্টে সব সময় ৫,২০০ টাকা থাকতে হবে।’’ সে কথা শুনে পিছিয়ে আসেন তিনি। তাপসের দাবি, অত টাকা দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন ওই কর্মীকে।

পাঁচ বছর পরে গত ২০ জুন আসে আয়করের নোটিস। তাতে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের বড় আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করে ২০১২-’১৩ সালের রিটার্ন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাপসকে। বুঝতে না পেরে প্রথমে নোটিসটিকে গুরুত্ব দেননি। ফের নোটিস আসে অক্টোবরে। গত ৫ ডিসেম্বর আবার নোটিস পেয়ে বুঝতে পারেন, বড়সড় গণ্ডগোল হয়েছে। নোটিস থেকে জানা যায়, তাঁর নামে থাকা ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। 

এমনকী, হাজিরা না দেওয়ায় আয়কর দফতর ইতিমধ্যেই তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে। তাপসের বক্তব্য, ‘‘ওই অ্যাকাউন্ট আমার নয়। আমার নথি ব্যবহার করে জালিয়াতি হয়েছে। আমি কেন আয়কর দফতরকে টাকা দেব?’’

তাপসের আইনজীবী সুব্রত মুখোপাধায় জানান, সিউড়ি সিজেএম আদালতের মাধ্যমে সাঁইথিয়া থানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ হয়েছে। 

সুব্রত বাবুর দাবি, ‘‘কারও সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই ব্যাংকের কেউ আমার মক্কেলের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে লক্ষ লক্ষ টাকা বেআইনি লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়েছে।’’

আয়কর দফতরের এক কর্তা জানান, নোট বাতিলের পরে এমন ঘটনা তাঁদের সামনে অনেক এসেছে। গরিব মানুষের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘কিন্তু, এটি তার আগের ঘটনা। 

তবু যেহেতু একটি অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে, তাই নিয়মমাফিকই রিটার্ন দাখিল করার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে।’’ মন্তব্য করতে চাননি ওই বেসরকারি ব্যাংকের সাঁইথিয়া শাখার বর্তমান ম্যানেজার। যোগাযোগ করা যায়নি কর্মীর সঙ্গেও। তিনি চাকরি ছেড়েছেন।

এই পরিস্থিতে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছে তাপসের পরিবারের। তাঁর কথায়, ‘‘লাখ লাখ টাকা চোখে দেখা দূরের কথা, তা পাওয়ার স্বপ্নও দেখি না। বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা, ভাই-বোন। কোনও ভাবে সংসার চলে। এখন কোর্ট-কাছারির খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’