৬৪ জেলায় আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প হবে
তরুণদের আগ্রহী বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। 'ডিজিটাল বাংলাদেশে আমরা দুর্বার' স্লোগান নিয়ে শিগগিরই জাতীয়ভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
দেশজুড়ে কাজ করা ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারের পাশাপাশি আইসিটি খাতে আরও ৪২ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্প থেকে এ আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প চালু হচ্ছে।
দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরব্যাপী এই ক্যারিয়ার ক্যাম্প চলবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে উদ্বুদ্ধ করতে দিনব্যাপী ক্যারিয়ার ক্যাম্পের নানা ইভেন্টকে আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইকন হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে তরুণদের উদ্বুদ্ধ ও প্রেরণা জাগানো বক্তৃতা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আইসিটি বিষয়ক কুইজ ও প্রশ্নোত্তরসহ নানা ইভেন্ট নিয়ে প্রতিদিনের ক্যারিয়ার ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
শিক্ষার্থীদের সামনে যদি আইটি খাতের সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরা যায় এবং তাদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যায় তাহলে তারা শিক্ষাজীবন থেকেই আইটিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার কথা ভাববে। আইসিটি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগানো যাবে।
তারা বলেন, আমাদের তরুণরা নতুন নতুন প্রযুক্তিকে খুব সহজেই গ্রহণ করছে। অনেকে প্রশিক্ষণ ছাড়াই ভালো কিছু কাজ করছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশের সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে তারা সব জেলায় যাবেন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ আইসিটি রফতানির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং আইটি পেশাজীবীর সংখ্যা ২ মিলিয়নে উন্নীত করা হবে। দেশে আইটি শিল্পের প্রসার ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে। আইটি শিল্পের প্রসার ও কর্মসংস্থানের জন্য সরকার ইতিমধ্যে নানা কার্যক্রম নিয়েছে। ১২টি হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
যশোরের সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণ সমাপ্তির পথে। কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্কের উন্নয়ন জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। এটি সমাপ্ত হলে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বিসিসির নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার বিশ্বাস আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে আগ্রহী করে তুলবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে স্থাপিত বিশেষায়িত ল্যাবগুলোয় প্রশিক্ষণ গ্রহণে তারা উদ্বুদ্ধ হবে। অনেকেই জানেন না, আমাদের দেশে টাইটানিয়াম, স্মাকের মতো বিশেষায়িত ল্যাব রয়েছে, যেখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


