আপনার মোবাইল যখন অন্যকে আতঙ্কিত করে
“ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম” বিষয়টা কি তা অধিকাংশ মানুষই জানেন না। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো প্রতি দশ জনের মাঝে নয়জন এই ভৌতিক সিনড্রোমে ভূগছেন! তাহলে বিষয়টা কি? আপনি কোন একটা কাজে ব্যাস্ত হঠাৎ আপনার পকেটে মোবাইল ফোনটি ভাইব্রেশন মুডে কেঁপে উঠল। নিশ্চই সেটা আপনাকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও হতচকিত করে দেয়! বিষয়টা ঘুমের মাঝে ঘটলে বুকে কাঁপুনি ধরে যায়। এটাই “ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম”। ফোনের ঘর ঘর আওয়াজ শুধু আপনাকেই নয়, আপনার পাশের মানুষটিকেও হঠাৎ আতঙ্কিত করে দিতে পারে।
দার্শনিক এবং জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ড. রবার্ট রোজেনবার্গার বলেছেন, ঘটনাটি অভিজ্ঞতালব্ধ দৈহিক অভ্যাসের কারনে হয়। কম্পিউটার ইন হিউমেন বিহেভিওর জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে তিনি বলেছেন, কারও পকেটে যখন একটা ফোন থাকে তখন সেটা তার “দেহের একটি অংশ” মনে হয়। একইভাবে চশমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি ঘটে। কিন্তু সেই মোবাইল যখন হঠাৎ কেঁপে উঠে জানান দেয় তখন ব্যাবহারকারীর কাছে কয়েক মুহূর্ত মনে হতে পারে যে তার দেহের পেশীগুলো কাঁপছে। এর ফলে অনেকে চমকে উঠে। কিন্তু বিষয়টি হ্যালুসিনেশন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই হ্যালুসিনেশনের দ্বারা মানসিক ভোগান্তি কিন্তু কম হয়না। হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য তো এটা মহা বিপদজনক।
অধ্যাপক রবার্ট বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, সাম্প্রতিক একটা জরীপে নব্বই শতাংশ মানুষ বলেছেন তারা এই ‘ফ্যান্টম ভাইব্রেশন’ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভবের ফলে এই সিনড্রোম আরও দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই পকেটে হঠাৎ কেঁপে উঠা কোন প্রযুক্তিপণ্য আমাদেরকে উত্তেজিত এবং সন্ত্রস্ত করে তুলছে।


