ফাইনালে পৌঁছাতে ব্রাজিল দিয়েছে ১২ গোল, আর্জেন্টিনা ১৪
১১ জুলাই, বাংলাদেশে যখন সূর্যের উদয় হবে তখন লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলে সূর্য আলোকে ঢেকে বিরাজ করবে অন্ধকার। এই আলো আঁধারের খেলার মাঝেই চলবে আরেক খেলা। যে খেলা দেখার কোনো উপলক্ষ্য প্রয়োজন পড়ে না। যে খেলায় হার মানে ইউরোপের রাজকীয় ফুটবল দর্শনের উত্তেজনা। আর উপলক্ষ্য যদি হয় ফাইনাল, তবে সেদিন পুরো পৃথিবী ভাগ হয়ে যায় দু’ভূখণ্ডে। পৃথিবীর একপাশ ছেয়ে যায় সূর্যের হলুদ শিখায়, অপরপাশে দেখা মিলে আকাশের নীল।
এবার ব্রাজিলে চলা কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। যেখানে একে একে সকল বাঁধা অতিক্রম করে ফাইনালের টিকিট কেটেছে দুই দল। গ্রুপপর্ব থেকে ফাইনালে উঠা পর্যন্ত মোট ১২টি গোল করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার গোল সংখ্যা ১৪টি।
জয়, ড্র কিংবা হারের দিক থেকে এবারের কোপাতে আর্জেন্টিনা অথবা ব্রাজিল কাউকেই পিছিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কেননা এখন পর্যন্ত দুদলই ছয়টি করে ম্যাচ খেলেছে। আর সফলতার হারও সমান। উভয় দলই পাঁচটি করে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি ড্র করেছে একটিতে। আর এখন পর্যন্ত হারেনি কেউই।
জয়-পরাজয়ে কাউকে এগিয়ে না রাখা গেলেও একদিক থেকে মেসিদের ঠিকই ব্রাজিলের সামনে রাখছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী। কেননা গোলের হিসেবে নেইমারদের চেয়ে এগিয়েই রয়েছে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল মোট ১২টি করেছে। আর প্রতিপক্ষের জালে আর্জেন্টিনার পাঠানোর বলের সংখ্যা ১৪।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোল ব্যবধানে হারানোর পর পেরু কাছে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এরপর তৃতীয় ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে ২-১ গোল। আর বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হয় ১-১ গোল ব্যবধানে। নকআউটপর্বে চিলি এবং পেরু উভয় দলের বিপক্ষেই ১-০ গোলে জয় আসে তিতের শিষ্যদের।
এদিকে আর্জেন্টিনার মোট ১৪ গোলের মধ্যে গ্রুপপর্বে রয়েছে সাতটি এবং নকআউটপর্বে মেসিরা দিয়েছে মোট সাতটি গোল।
তবে নকআউটপর্বের গোলে আপত্তি রয়েছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের। কেননা সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার দেয়া চারটি গোলের মধ্যে তিনটিই কিন্তু টাইব্রেকারে দেয়া। এজন্যই এই তিনটি গোল বাদ দিয়ে হিসেবে করলে স্কালোনির শিষ্যদের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি। আর তাই নেইমারদের থেকে আর্জেন্টিনাকে পিছিয়েই রাখছে ব্রাজিল সমর্থকরা। আবার দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের চেয়ে বেশি গোলও হজম করেছে। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল যেখানে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে, সেখানে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়েছে মোট তিনবার। আর টাইব্রেকারের গোল হিসেব করলে গোল হজমের সংখ্যাটা দাঁড়াতে পাঁচে।


