ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতির মাঠ : প্রত্যাশা ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা
নড়াইল-২ আসন থেকে মাশরাফির নির্বাচন করা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়কের প্রার্থিতা ঘোষণার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক চলছে দেশজুড়ে। ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা অবশ্য নড়াইল এক্সপ্রেসের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। লাল-সবুজ জার্সিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া মাশরাফি নির্বাচিত হলে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেবেন— একটা পক্ষের যুক্তি।
নির্বাচিত হলে মাশরাফি কী করবেন, তা সময়ই বলবে। ক্রীড়াবিদ থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অতীত ইতিহাস স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আদৌ আশাব্যঞ্জক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম একসময়কার সাড়া জাগানো ফুটবলার। ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) শীর্ষ কর্মকর্তাও। কিন্তু খেলাটির উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। হাফিজ উদ্দিন এবারো ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচনের রেসে আছেন।
ফুটবলার ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও। এখন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা অবশ্য বেশ কমে এসেছে। কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবারো হয়তো একই আসনের জন্য লড়বেন। প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও রাজনীতিতে নিজেকে ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত করছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত দুর্জয় নিজের আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবেন।
ফুটবলের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে আরিফ খান জয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও উল্লেখ করার মতো কিছুই করতে পারেননি সাবেক এ মিডফিল্ডার। বিগত নির্বাচনে নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জয় এবারো মনোনয়নপ্রত্যাশী।
‘ক্রীড়াঙ্গন থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ব্যক্তিরা দেশের খেলাধুলার মানোন্নয়নে মোটাদাগে তেমন কিছুই করেননি। ফুটবলার আরিফ খান জয় এখন মন্ত্রী। অথচ তার আমলেই দেশের ফুটবল সবচেয়ে বাজে অবস্থা পার করছে’— গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে সোচ্চার হওয়া সংগঠন সেভ দ্য স্পোর্টস মহাসচিব দিলদার হাসান দিলু। এ সংগঠক যোগ করেন, ‘ক্রীড়াবিদদের জন্যও উল্লেখ করার মতো কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি, যা খুবই দুঃখজনক। হকি তারকা জুম্মান লুসাই, কিংবদন্তি সাঁতারু অরুণ নন্দী, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য আইনুল হকরা জীবনের শেষ দিকে অনেক কষ্ট করেছেন। ক্রীড়াবিদ থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ব্যক্তিরা তাদের জন্য কী করেছেন?’
আসন্ন নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গন থেকে আওয়ামী লিগের আলোচিত প্রার্থী মাশরাফি। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনা আছে আমিনুল হককে নিয়েও। ২০০৩ সালে দেশকে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করানোর নায়ক ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রার্থিতা চাইছেন। মাশরাফি-আমিনুলের মতো জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফুল হক প্রিন্সও মনোনয়নপ্রত্যাশী। টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চান প্রিন্স।
‘আমার জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে। দলীয় শীর্ষপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আশা করছি, দলের শীর্ষ মহল আমার ওপর আস্থা রাখবে। মনোনয়ন ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্তই হোক, কেন্দ্রের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আমি প্রস্তুত’— বলেন আরিফুল হক প্রিন্স।
জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা মারা যাওয়ায় খুলনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে এমপি হয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদী। আসন্ন নির্বাচনে ওই আসনেই নির্বাচন করবেন একই সঙ্গে ফুটবল ও ব্যবসায় আকাশচুম্বী সাফল্য পাওয়া সালাম মুর্শেদী।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার বাদল রায় কুমিল্লা-২ আসনে, সাবেক ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল মানিকগঞ্জ-২, সাবেক জাতীয় ফুটবলার খুরশিদ আলম বাবুল টাঙ্গাইল-৬, বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক ফুটবলার একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ আসনে নির্বাচনের লড়াইয়ে আছেন। গাইবান্ধা-২ আসন থেকে লড়াইয়ে আছেন সাবেক অ্যাথলিট মাহবুব আরা বেগম গিনি। সবাই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।
সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ ঢাকা-১৪ অথবা ঢাকা-১৭ আসন থেকে জাকের পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন প্রশ্নে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে একসময়কার সাড়া জাগানো এ ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যেই এ-বিষয়ক সিদ্ধান্ত হবে।’ সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হতে চান। এছাড়া অনেক ক্রীড়া সংগঠকও আছেন এবারের নির্বাচনী ময়দানে।


