English Version
আপডেট : ১ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:১৮

দুবাইয়ে খেলার জন্য অনুমতি পেলেন সাকিব, তবে……

অনলাইন ডেস্ক
দুবাইয়ে খেলার জন্য অনুমতি পেলেন সাকিব, তবে……

হাতের ইনজুরি এখনো পুরোপুরি সেরে উঠেনি সাকিব আল হাসানের। ঠিক কবে নাগাদ মাঠের ক্রিকেটে ফিরবেন তার সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তবে ডিসেম্বরে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলার জন্য সাকিব কিছুদিন আগে বিসিবির কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিছুটা দেনদরবারের পর সেই অনুমতি বিসিবি তাকে দিয়েছে। অবশ্য সেই সঙ্গে একটা বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে বিসিবি। বলে দেয়া হয়েছে পুরোপুরি ফিট না থাকলে সাকিব আল হাসান সেই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না।

বিসিবি’র ক্রিকেট অপারেসন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান মঙ্গলবার জানান-‘সাকিব আমাদের কাছে এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ছাড়পত্র চেয়েছিলো। আমরা তাকে এনওসি (নন অবজেকশান সার্টিফিকেট) দিয়েছি। সাকিব আমাদের জানিয়েছে ইনজুরিগ্রস্ত আঙ্গুলে এখন ব্যাথা নেই। তবে সেই সঙ্গে আমরা জানিয়ে দিয়েছি মেডিক্যালি সে যদি ফিট থাকে তবেই শুধু ঐ টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে।’

আকরাম আশা করছেন ডিসেম্বরে দুবাইয়ে সেই টুর্নামেন্টের আগেই সাকিব আল হাসান পুরোমাত্রায় তার ফিটনেস ফিরে পাবেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরবেন। সেই প্রসঙ্গে আকরাম আরো জানান-‘ দলের চিকিৎসক, ফিজিও এবং সাকিবের সঙ্গেও আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। সবাই বেশ আশাবাদি যে সাকিব খুব শিগগিরই মাঠের ক্রিকেটে ফিরছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নভেম্বরের সিরিজেই সাকিবকে অ্যাকশনে দেখা যেতে পারে। হয়তো বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের একেবারে শুরু থেকে তাকে আমরা পাবো না। তবে সেই সিরিজে শেষের দিকে হলেও সাকিব খেলতে পারবে-সেই আশার অপেক্ষায় আমরা।’

এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান-‘দিন কয়েক আগে সাকিবের এই ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। সেই বৈঠকে উপস্থিত বিসিবির সবাই ব্যাপারটা ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখেছিলেন। তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সাকিবের ছাড়পত্রের ব্যাপারটি অনুমোদিত হবে। বলা হয়েছিল বিষয়টা ‘সাবজেক্ট টু মেডিক্যাল ফিটনেস’-এর এখতিয়ারভুক্ত হতে হবে।’

আঙ্গুলের ইনজুরির জন্য সাকিব এশিয়া কাপের মাঝপথ থেকে দেশে ফিরে আসেন। কনিষ্ঠ আঙ্গুলের বহু পুরানো সেই চোটগ্রস্ত স্থানে তার ইনফেকশান হয়ে যায়। সেই ইনফেকশান সারাতে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের অস্ত্রোপচারের টেবিলে উঠতে হয়। মেলবোর্নেও ছুটতে হয় সপ্তাহখানেকের জন্য। চিকিৎসা পদ্ধতির রিভিউ এবং ধরন-ধারন জানতেই মেলবোর্নে উড়ে যান সাকিব। চিকিৎসকরা তাকে জানান- লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। ঠিক এমনই সময় দুবাইয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলার অনুমতি চেয়ে বসেন সাকিব। হাতের ইনজুরি সারেনি, কবে মাঠের ক্রিকেটে ক্রিকেটে ফেরা হবে-এমন কোন কিছু চুড়ান্ত না হওয়া সত্তে¡ও বিসিবি সাকিবের কাছ থেকে দুবাইয়ে খেলার অনুমতির আবেদন পত্র পেয়ে বিরক্ত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে তখন বিসিবি জানিয়েছিল-তারা সাকিবকে এই টুর্নামেন্টে খেলার ছাড়পত্র দেবে না। সাকিব নিজেও এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, সম্ভবত বিসিবি তাকে ছাড়পত্র দেবে না। কিন্তু মাঝের কিছুদিনের মধ্যেই বিসিবি তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসে।

আকস্মিকভাবে ক্রিকেট কর্তাদের কঠোর অবস্থান থেকে এমন নমনীয় হয়ে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিসিবির এক পরিচালকও অবাক সুরে জানান-‘কিভাবে যেন সবকিছু ম্যানেজ হয়ে গেলো!’