বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস
যেকোন জয়কে নিঃসন্দেহে অনেক আবেগ ও আনন্দের। বিশ্বকাপ জয় করে ফুটবলের ট্রফি উচিয়ে ধরা সব ফুটবলারেরই চিরকালীন আরাধ্য। আবেগ আর জয়ের প্রতীক বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ করার প্রয়াস চেষ্টা করা হলো।
১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ীরা 'ভিক্টোরি' নামের ট্রফিটি উচিয়ে ধরেছে কিন্তু প্রথম তিন আসর শুধুমাত্র ট্রফিটির নাম ছিলো 'ভিক্টোরি'।
১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপের প্রবক্তা জুলে রিমেকে সম্মান জানোর জন্য চেইঞ্জ করা হয় ট্রফির নাম। 'ভিক্টোরি' থেকে নাম হয় জুলে রিমে ট্রফি। অনেক ঝড়-ঝাপটা গিয়েছে এই জুলে রিমের ট্রফির উপর দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের সময় যাতে ট্রফিটি চুরি হয়ে না যায় সে জন্য একটি জুতার বক্সের ভিতরে ঢুকিয়ে মাটির ৭ ফুট নিচে পুতে রেখেছিল ১৯৩৮ বিশ্বকাপ জেতা ইতালিয়ান ফুটবল কর্তারা। এরপর ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ৪ মাস আগে এক প্রদর্শনী থেকে চুরি হয়ে যায় এই ট্রফিটি কিন্তু ৭ দিন পর সেই ট্রফিটিকে উদ্ধার করে পিকলেস নামের একটি কুকুর। এর পরেই সেলিব্রেটি হয়ে যায় পিকলেস নামের সেই কুকুরটি। তারপর প্রদর্শনীর জন্য হুবহু আসল ট্রফির মতো ড্যামি ট্রফি তৈরি করে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপজয়ী দল ৪ বছরের জন্য নিজেদের কাছে ট্রফিটি রাখতে পারতো তবে শর্ত ছিলো কোন দল তিন বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হলে সেটি চিরতরে সেই দলের হয়ে যাবে। ঠিক ১৯৭০ সালে এই শর্ত ব্রাজিল পূরণ করায় জুলে রিমে হয়ে যায় সেলেসাওদের কিন্তু ১৯৯৩ সালে ঘটে এক অঘটন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে চুরি হয়ে যায় এটি। এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি জুলে রিমেকে। ধারণা করা হয় চোর হয়তো এই ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছে। তাই জুলে রিমে ট্রফির স্মৃতি ধরে রাখতে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে সেই ড্যামি ট্রফিটি চরা মূল্যে কিনে নেয় ফিফা।
১৯৭০ সালে ব্রাজিলকে স্থায়ী ভাবে ট্রফিটি দিয়ে দেওয়ার পর একটি নতুন ট্রফির উদ্যোগ নেয় ফিফা। ইতালিয়ান ডিজাইনার সিলভিও গাজ্জানিগার নকশা অনুযায়ী সেই ট্রফি তৈরি করে ফিফা। যার নাম দেওয়া হয় ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি (FIFA WORLD COUP)। খাটি সোনার তৈরি এই ট্রফির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার ওজন ৫ কেজি ট্রফিটির বৃত্তি তৈরি করা হয়েছে ম্যালাকাইট দিয়ে। ট্রফির নিচে ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব বিশ্বকাপজয়ী দলের নাম লিখা আছে। চাইলে যে কেউ এই বিশ্বকাপ ট্রফি ছুয়ে দেখতে পারবে না। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, ফিফার উচ্চ পদস্থ কিছু কর্মকর্তা ও যে কোন দেশের রাষ্টপ্রধানই হাতে নিতে পারবে এই ট্রফি। তাই যে কারণে মেসি, নেইমার রোনালদোর মত তারকারা এই ট্রফি ছুয়ে দেখতে পারেনি এখনো।


