চিরবিদায় নিলেন ফিফার সভাপতি হাভেলাঞ্জ
ফিফার সাবেক সভাপতি জোয়াও হাভেলাঞ্জ মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) পরলোক গমন করেছেন। এসময় তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
তিনি ১৯৬৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আইওসি থেকে পদত্যাগ করেন। হাভেলাঞ্জ ১৯৩৬ অলিম্পিকে ব্রাজিলের হয়ে সাঁতারে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫২ সালে হেলসিংকি গেমসে তিনি ব্রাজিলের ওয়াটার পোলো দলেরও সদস্য ছিলেন। আর ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিকে তিনি ব্রাজিলের ডেলিগেট ছিলেন।
তার আমলেই বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ১৬ থেকে ৩২ হয়। তার তত্ত্বাবধানে ৬টি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ দল থেকে ৩২ দল হলে এশিয়া, ওশেনিয়া ও আফ্রিকা থেকে বেশি দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। তার আমলেই ক্যামেরুন প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। নতুন নতুন বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট শুরু হয় তার সময়ে।
অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ১৯৮০ সালে শুরু করেন তিনি। ১৯৯০ সালের শুরুতে তিনি প্রচলন করেন ফিফা কনফেডারেশনস কাপ ও ফিফা নারী বিশ্বকাপের।
১৯৮৬ সালে তিনি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন। তিনি ফুটবলের প্রশাসনে নাম করলেও প্রথমে তিনি ব্রাজিলের সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছিলেন। তিনি ব্রাজিল অলিম্পিক কমিটিরও সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাইক্লিং ইউনিয়নেও যোগ দেন।
এরপর তিনি ব্রাজিল স্পোর্টস কনফেডারেশনের সহ-সভাপতি হন। এরপর ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি বিশ্ব ফুটবলে একজন শক্তিশালী প্রশাসক হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ব্রিটেনের স্যার স্টানলি রাওসের স্থলাভিষিক্ত হন ফিফার নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে। এরপর ২৪ বছর তিনি ফিফার সভাপতির পদে থাকেন। ১৯৯৮ সালে সেপ ব্লাটার তার স্থলাভিষিক্ত হন। আর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট তিনি চির বিদায় নেন।


