English Version
আপডেট : ৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:১০

বাড়ছে ভালো কিছু কোম্পানির দর: কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চেষ্টা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
বাড়ছে ভালো কিছু কোম্পানির দর: কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চেষ্টা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

সূচক বৃদ্ধিতে আগের দিনের ধারবাহিকতা না থাকলেও দিনশেষে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে পুঁজিবাজারে। এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ার কেনার চাপ ছিল। তবে শেষার্ধে কিছুটা বিক্রির চাপ এলেও শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচকে ১৪ পয়েন্টের উত্থান ঘটেছে। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের স্বাভাবিক গতিতে ইতিবাচক ছিল বাজার। আর আগের দিন ব্যাংক, আর্থিক, বীমা ও বস্ত্র খাতে ক্রয়ের চাপ থাকলেও আজ ছিল বিপরীত চিত্র। তবে স্কয়ার ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্যাটবিসি ও জ্বালানী খাতের প্রবণতায় গ্রীণ সিগ্যনাল রক্ষা পায় সূচকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন। এমন প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে কদিন ধরে কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে। তবে বাজারে মাঝে মাঝে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কারণ যারা বড় বিনিয়োগকারী, সাধারণত নির্বাচনের আগে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করছেন। নির্বাচন পরিস্থিতি কেমন হবে সেটা ভেবে তারা রিস্ক ফ্রি থাকতে চান। এরই অংশহিসেবে তারা সামান্য মুনাফা পেয়েই শেয়ার বিক্রি করছেন। যাতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির। তবে পুঁজিবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা সেটা বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগ করা উচিত। আর বাজার পরিস্থিতি উন্নয়নে এক্সপোজার সমস্যার সমাধান, ডিমান্ড সাইট শক্তিশালীকরণ, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি, ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বৃদ্ধি, শর্ট সেল চালুকরণসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ওই বিশেষজ্ঞরা।

তবে কেউ কেউ বলছেন, মার্কেট পড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্টরা নড়েচড়ে বসে। এরপর কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না, থাকে না নজরদারি। ফলে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি সাময়িক মোকাবিলা করা গেলেও সমস্যা থেকেই যায়। এ বাজারে পতনের পেছনে তারল্য সংকট রয়েছে। আর এ সংকট সৃষ্টি হয় সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসতর্কতায়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি পুঁজিবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা দিয়ে সংকট সৃষ্টি করেছে। এমনকি অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু সুপারিশ করলেও ব্যাংকটি সেগুলো পরিপালন করছে না। এছাড়াও বাজার শক্তিশালীকরণে আইসিবি’র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাপিটাল মার্কেট স্পেশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিবির ভূমিকা যাতে আগামী দিনগুলোয় আরও জোরদার করা যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে আইসিবিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক আইসিবিকে দেওয়া ফান্ড বা ঋণ সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিটে শিথিল করতে হবে। বাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চেষ্টা না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

এদিকে, আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কিছুটা বাড়লেও কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫৪৫৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১২৭৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৯২৮ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৩৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০১টির, কমেছে ১৯৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৮০১ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ৩০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৫৪৪০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১২৬৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৯০৯ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ২০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, দিনশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট বেড়েছে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪২টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ১৩৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্ট-ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে লক্ষাধিক লিমিটেড কোম্পানি কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত। এর মধ্যে কমপক্ষে কয়েক হাজার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা আছে। কিন্তু আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা নগণ্য। বাজার চাঙা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি, মোবাইল ফোন অপারেটর এবং ইউনিলিভার ও নেসলের মতো ব্যাপক মুনাফা অর্জনকারী বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে সুস্পষ্ট তাগিদ ও নির্দেশনা দিতে হবে। আর বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি সংস্কার প্রয়োজন। তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট করের ব্যবধান ১০ শতাংশ রয়েছে। এ ব্যবধান বাড়ানো হলে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর রহিত করা হলে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। তাছাড়া বাজার অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসম্মত এবং লাভজনক করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে বলেও ধারনা তাদের।