খরা দুর করে সুবাতাশ পুঁজিবাজারে
লেনদেন খরা দুর করে সুবাতাশ বইছে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে। পাঁচ মাস বা ১১২ কার্ষদিবস মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেন আজ সর্বোচ্চ হয়েছে। লেনদেনের বাড়ার একই চিএ চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদ্যমান। আবার উভয় বাজারে আজ সূচকও ছিল উধ্বগতি। এই ধরনের লেদেনের বাড়াসহ সূচক উধ্বগতি বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বোদ্ধারা।
তাদের মতে, ডিএসইতে এ বছরের শুরুর লেনদেন তিন’শ কোটির টাকার ঘরে থাকলেও এখন তা সাত’শ কোটি ঘরে ওঠে এসেছে। আবার সিএসইতে এ বছরের শুরুর লেনদেন ত্রিশ কোটির টাকার ঘরে থাকলেও এখন তা পঞ্চাশ কোটি টাকার ঘরের কাছাকাছি। এ যেন পুঁজিবাজারে লেনদেনের পালে হাওয়া লেগেছে।
আবার চলতি বছরে প্রথম দিনে সূচক ছিল ৪৬২৪ পয়েন্ট। আজ নয় কার্যদিবসে এই সূচক বেড়ে দ্বাড়িয়েছে ৪৬৮৬ পয়েন্টে। এসময়ে ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ৬২ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজারে সিএসইতে এসময়ে সূচক বেড়েছে ১৪১ পয়েন্ট। উভয় সূচক উধ্বমূখীতে বলা যায় চলতি বছরের পুঁজিবাজার ইতিবাচক হিসেবে দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
লেনদেন বাড়ার বিষয়ে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, নতুন বছরকে ঘিরে বাজারে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। পাশাপাশি বর্তমান বাজার পূর্বের চেয়ে পরিপক্ক হয়েছে। অতীতের ঝড় রোধ করে ডিএসই আগাচ্ছে।
পুঁজিবাজার অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে ৩৬৬ কোটি ৪২ লাথ টাকা লেনদেন হয়েছিল। মাত্র নয় কার্যদিবসে ব্যবধানে তা ৭৪৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বুধবার দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৭৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এটি গত ৫ মাসের বা ১১২ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইর সর্বোচ্চ লেনদেন হিসেবে গন্য হয়েছে। এর আগে ডিএসইতে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট সর্বোচ্চ ৯০২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫৭৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে বুধবার লেনদেন বেড়েছে ১৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। লেনদেন বাড়ার এ হার ২৯.৭৬ শতাংশ।
দেশের অপর শেয়ারবাজার সিএসই লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। আজ দিনশেষে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে লেনদেনে কিছুটা গতি ফিরতে শুরু করে। ৩০০ কোটি টাকার ঘর থেকে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। টানা ৪ দিন ৬০০ কোটি টাকার বেশী লেনদেন হওয়ার পর ফের লেনদেনে ভাটির টান দেখা দেয়। লেনদেন নেমে আসে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে। বুধবার হঠাৎ করেই বড় ধরনের গতি দেখা গেল লেনদেনে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন বছরকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ফের বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে।
এদিকে লেনদেনের পাশাপাশি দেশের উভয় বাজারে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচকের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন। বুধবার ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২০.৬১ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৮৬.০৫ পয়েন্টে। মঙ্গলবার সূচক বেড়েছিল ১.৮১ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৫টি ইস্যুর মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ১৯৮টির, কমেছে ৯২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির দর।
লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। দিনশেষে কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৭৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিডি থাইয়ের লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৬১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ১৮ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- বেক্সিমকো ফার্মা, ফার কেমিক্যাল, বেক্সিমকো, এমারল্ড অয়েল, আইটি কনসালটেন্টস, পাওয়ার গ্রীড, ইউনাইটেড এয়ার।
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএসসিএক্স ৫১.৮৩ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে ৮৭৩৪.৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়ালফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৭টির, কমেছে ৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দর।


