English Version
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৫০

শেয়ার দর বাড়ার তথ্য নেই আইটিসি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার দর বাড়ার তথ্য নেই আইটিসি’র

শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বাড়ার পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি আইটি কনসালটেন্টস (আইটিসি)।

দর বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে এ জবাব দিয়েছে কোম্পানিটি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায়, গত ১০ জানুয়ারি থেকে লেনদেন শুরু হওয়া আইটিসি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েই চলছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ কোম্পানির শেয়ারের দর প্রথম দিনেই বেড়েছিল ৩৬৫ শতাংশ। এরপর ধারবাহিকভাবে কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে। ১২ জানুয়ারি লেনদেন শেষে কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৮ টাকা। আজ বুধবারও কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৫.৬০ টাকা। আজ দিনের শুরুতে কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল ৫৬.৮ টাকা। শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন দর হয়েছে ৬২.৪০ টাকা। অর্থাৎ সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় দর বেড়েছে কোম্পানির।

আইটিসি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। দর বাড়ার পেছনে মূল্য সংবেদনশীল কোন তথ্য রয়েছে কি না তা জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি দেয় ডিএসই। চিঠির প্রেক্ষিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দর বৃদ্ধির পেছনে মূল্য সংবেদনশীল অপ্রকাশিত কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।

দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রখম দিনে ডিএসইতে এ আইটিসি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৩৬৫ শতাংশ। প্রথমদিনেই এই ধরনের দর বাড়া কোম্পানি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক বয়ে আনবে এমনটি মানতে নারাজ ছিলেন বাজার বোদ্ধারা।

তাদের মতে,  প্রথম দিনের পরও এই কোম্পানিটি শেয়ার দর আরও তিন কার্যদিবস বেড়েছে। এসময়ে ৪৬.৫০ থেকে বেড়ে শেয়ার দর দাড়িয়েছে ৬২.৪০ টাকা। তার মানে মাত্র চার কার্যদিবসে দর বেড়েছে ৫২.৪০ টাকা। এযেন শেয়ারবাজারে আলাউদ্দিনের চেরাগ। পুঁজিবাজারে কারনবিহীন শেয়ার দর উল্লফন ভাল কিছু বয়ে আনেনি। তেমননি এই কোম্পানিটি ভাল কিছু বয়ে আনবে এমন ধারনা অনেকের কাছে পরিস্কার হবে কিছু দিন বাদে বলে জানান তারা।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার মাত্র চার কার্যদিবস লেনদেন করে দর এসেছে ৬২.৪০ টাকা। এ হিসাবে এসময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৫২.৪০ টাকা। দরবৃদ্ধির এ হার ৫২০ শতাংশ। লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারের দর হাঁকা হয় ৩৬.৯ টাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লাক্রমে দর শুধু বেড়েছে।

জানা যায়, ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) লোকসান গুনেছে কোম্পানিটি। এ সময়ে লোকসান হয়েছে ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর শেয়ারপ্রতি এই লোকসানের পরিমাণ হচ্ছে ৬ পয়সা।

কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাসে মতে, কোম্পানির ইতিহাসে প্রায় বিগত পাঁচ বছরে লোকসানের রেকর্ড নেই আইটি কনসালটেন্টসের। প্রতি বছরই মুনাফা করেছে এ কোম্পানিটি। ২০১৪ সালের ৩০ জুনের সমাপ্ত হিসাবে কোম্পানিটি ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১.০৪ টাকা। । শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৮.২৮ টাকা। আবার প্রসপেক্টাসে ঔই সমাপ্ত হিসাবের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা লোকসান গুনেছিল। এবং শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪২ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে এত বড় লোকসান দেওয়ার পর বছর শেষে বড় ধরনের মুনাফা হয়েছিল কোম্পানিটিতে। তাই কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রযেছে। পাশাপাশি ২০১৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসানকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিতক্তও চলছে বাজারে।

আরও জানা যায়, আইটিসি কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড ‘ITC’ এবং কোম্পানি কোড ২২৬৪৮। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিজয়ী বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টে এ কোম্পানির শেয়ার জমা করা হয়। বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা হওয়ার পর কোম্পানিটির লেনদেন শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে মোট ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

গত ২ থেকে ১২ নভেম্বর সব ধরনের বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের আবেদন গ্রহণ করে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থে কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ খাতে ব্যয় করবে। গত ৩ ডিসেম্বর কোম্পানিটির আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। আইপিওতে চাহিদার তুলনায় ৬৭.২৬ গুণ আবেদন জমা পড়ে। 

উল্লেথ্য ২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আইটিসি’র শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০৪ টাকা। এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৮.২৮ টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বেটাওয়ান ইনভেস্টমেন্ট।