সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ? টেক্সাসের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিভাবকরা
টেক্সাসের সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘টেন কমান্ডমেন্টস’ (দশ আদেশ) প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। হিউস্টন এলাকার তিনজন মা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ নির্ধারণের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
মামলায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনীতে অভিভাবকদের সন্তান লালন-পালন ও ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া টেক্সাস রিলিজিয়াস ফ্রিডম রেস্টোরেশন অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিতর্কিত এই আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত আকার ও বিন্যাসে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার দান করা হলে স্কুলগুলো তা টানাবে, আর প্রয়োজন হলে জেলা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থেও তা কিনতে পারবে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ঐতিহ্যের অংশ।
তবে বাদীপক্ষের অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বার্তা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তাদের মতে, পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অভিভাবকদের, রাষ্ট্রের নয়।
এটি টেক্সাসে এ ধরনের প্রথম মামলা নয়। এর আগে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অধর্মীয় পরিবারের সদস্যরা একই আইনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। সেইসব মামলায় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র-ধর্ম পৃথক থাকার নীতির প্রশ্নও সামনে আসে।
অন্যদিকে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন বরাবরই আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, ‘দশ আদেশ’ আমেরিকার আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রদর্শন করা আইনসঙ্গত।
নতুন মামলার শুনানির মাধ্যমে টেক্সাসের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মামলার ফলাফল শুধু টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।


