বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা, জোর করে শিক্ষার্থীদের বাসে তুলে দেওয়াসহ পুলিশের নানা হুমকির মাঝখানেই হঠাৎ করে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসেছে। শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে বসে পড়েছে তারা।
সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়ক দুই দিকেই বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ফ্যাস্টুন রয়েছে। এসবে লেখা রয়েছে ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘চলার পথটা যদি বিপজ্জনক হয় তাহলে দেশ সামনে এগোবে কী করে’, ‘বাস নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ড্রাইভিং বন্ধ করুন’, ‘ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা’ ইত্যাদি।
শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়েছে আদমজী স্কুল, কুর্মিটোলা শাহীন, বিএফ শাহীন, ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে এই এলাকা এখন শুধু শিক্ষার্থীদের দখলে।
এর আগে, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলো সহপাঠীরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তারা কলেজের সামনের রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়াতে যায়। কিন্তু পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায় সে কর্মসূচি। এরপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে রাস্তা অরবোধ করতে যায়। পুলিশ সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেয়। এসময় উত্তরাগামী সব বাস থামিয়ে জোর করে শিক্ষার্থীদের বাসে তুলে দিতে থাকে পুলিশ।
এসব ঘটনার মধ্যেই হঠাৎ হাজার খানেক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর সড়কে এসে রাস্তা অবরোধ করে। এসময় পুলিশ সরে গিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া রমিজ উদ্দিনের সামনে সেনা সদস্যরা রয়েছেন।
প্রসঙ্গত. গতকাল রোববার দুপুর ১ টার দিকে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের সামনে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্তে দুই বাসচালকের রেষারেষিতে প্রাণ হারায় দুই কলেজছাত্র। আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের পাশের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তারা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম।


