লেখাপড়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছেলে-মেয়েকে হত্যা করেছে মা
অরনী (১২) ও আলভী (৬)’র শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। প্রাথমিকভাবে এটুকু জানা গেছে। বিস্তারিত পরে তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
দুপুর ১টার দিকে র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজাকে পুরোপুরি সুস্থ মনে হয়েছে। এবং তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। সন্তানের লেখাপড়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কারণে দুই সন্তানকে হত্যা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য- এমন প্রশ্নে মুফতি মাহমুদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজা এটাই জানিয়েছেন। এ নিয়ে পরবর্তীতে মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মুফতী জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে মা জেসমিন আক্তার মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে ওড়না দিয়ে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। মেয়ে অরনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তিনি মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে একইভাবে ছেলেকে হত্যা করেন।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তার স্বামীকে ফোন করে বলেন, তাদের বিবাহবার্ষিকীর রয়ে যাওয়া খাবার খেয়ে ছেলে-মেয়ে অসুস্থ হয়ে গেছে। তারা কেমন কেমন করছে। পরে স্বামী তার বন্ধুসহ লোকজন বাসায় পাঠায়।
এরমধ্যে মাহফুজা সন্তান মৃত নিশ্চিত হয়েও তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে মাহফুজা ময়নাতদন্ত করতে বাধা দেন। কারণ তিনি জানতেন, ময়নাতদন্তে তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।


