সুস্থ থাকার জন্য আট ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট নয় বলছে গবেষকরা
চিরাচারিত নিয়ম অনুযায়ী আমাদেরকে সুস্থ থাকার জন্য বলা হয় বেশির ভাগ সময়েই দৈনিক অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। তবে এ ধারণা ভুল সম্প্রতি এক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ঘুমের জন্য আট ঘণ্টাও যথেষ্ট নয়। বিছানায় থাকতে হবে সাড়ে আট ঘণ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল গার্টেনবার্গ ঘুমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, সবারই সাড়ে আট ঘণ্টা বিছানায় থাকা উচিত।
ড. গার্টেনবার্গ জানান, একজন মানুষ বিছানায় থাকা অবস্থায় ৯০ শতাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। অর্থাৎ একজন মানুষ সাড়ে আট ঘণ্টা বিছানায় থাকলে তার আট ঘণ্টা পূর্ণ ঘুম হবে। এ কারণেই সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমের পেছনে ব্যয় করতে হবে।
অধ্যাপক বলেন, ঘুম নিয়ে গবেষণা করার ফলে দেখা যায় ‘অনেকেই আছে বিছানায় যাওয়ার পরেও অনেকটা সময় না ঘুমিয়ে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারের কারে যার ফলে অনেকে বেশ কিছু সময় জেগে থাকেন। তাই বিছানায় আট ঘণ্টা থাকলেও ঘুম কম হয়। আর তার ফলে আমাদের হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, সেই সঙ্গে কমে আয়ু।’
গার্টেনবার্গ আরও জানান, কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কম ঘুমিয়েও সুস্থ থাকেন। তারা দৈনিক আট ঘণ্টার কম ঘুম হলেও সমস্যা হয় না। কিন্তু এ ধরনের মানুষ আসলে খুবই কম এরা হয়ত বংশগত হয়ে থাকে। তাই বেশির ভাগ মানুষেরই আট ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুম দরকার হয়।
আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না, তা বোঝারও সহজ উপায় রয়েছে। ড. গার্টেনবার্গ জানান, আপনি যখন ঘুম থেকে উঠবেন তারপর আপনি যদি মনে করেন আপনি ক্লান্ত এবং সারাদিন আপনি উপায় খুঁজছেন কিভাবে ঘুমানো যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার ঘুম কম হচ্ছে।
গবেষণায় আরও জানানো হয়, সারা সপ্তাহ যদি আপনার ঘুম কম হয়, তাহলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতিটা কিছু কমানো যায়।
অতীতের গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, সপ্তাহে সাত দিন দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমালে আয়ু কমে যায়। তবে ছুটির দিনে আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমালে ক্ষতি কম হয়।


