‘পরকীয়ায় জড়ানোর কারন’
ইদানিং প্রায়ই পরকীয়ার বলি হচ্ছে নিজ সন্তান, স্বামী কিংবা স্ত্রী। কিন্তু সন্তান, স্বামী কিংবা স্ত্রী থাকতেও কেন তারা পরকীয়ায় জড়ান এই প্রশ্ন অনেকের। আবার পরকীয়া কী আধুনিক দাম্পত্য জীবনে শুরু নাকি তার আগে, এমন কৌতুহল রয়েছে।
অনেকের মতে, যেদিন থেকে একগামী পারিবারিক সম্পর্কের শুরু, সম্ভবত তখন থেকেই বিবাহ বহির্ভূত পরকীয়া সম্পর্কের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে। দীর্ঘ দিন একই সম্পর্কে একঘেয়ে হয়ে গিয়েই মানুষ পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মানুষ। কিন্তু শুধুই কি তাই? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও অনেক কারণ? মানব মন নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা অবশ্য বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, যাদের ২০ পেরোতে না পোরোতেই বিয়ে হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে পরিণত বয়সে গিয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় অনেক মানুষই জীবনের ওঠা পড়ার সঙ্গে ঠিক মতো খাপ খাইয়ে উঠতে পারেন না। আশ্রয় খোঁজেন অন্য কারও কাছে। পরিবারে স্বামী বা স্ত্রী সেই নির্ভরতা দিতে না পারলে, অন্য কোনও নির্ভরযোগ্য জায়গায়।
বিয়েতে মনের মিল না হওয়ায় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে তারা খুঁজে পেয়েছেন। তাদের মতে, অনেক সময় বাড়ির চাপে বা কোনও অবাঞ্ছিত পরিস্থিতিতে মানুষ মতের অমতে গিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হন। যার ফল স্বরূপ অনেকেই অন্য সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তারা বলেন, `বিবাহিত সম্পর্কে অনেকেই একটা সময়ের পর শারীরিক সম্পর্কে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন স্বামী-স্ত্রী। এই একঘেয়েমি কাটাতেও অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কেউ কেউ।` `সন্তানের বাবা-মা হয়ে যাওয়ার পর অনেক সময়ই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বদল আসে। ফলে দু’জনের মধ্যের স্বাভাবিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সময় মানুষ এমন একজনকে চায়, যাকে বন্ধুর মতো পাশে পাওয়া যাবে। ফলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে।` এছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে মানসিক দুরত্ব, মতবিরোধ, বিপরীত মানসিকতা, অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা, উচ্চাকাঙ্খা ও লালসার কারণে এই ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দম্পতিরা।


