বডি ল্যাঙ্গুয়েজ উপস্থাপন করবে ব্যক্তিত্ব
কথাবার্তা বলার সময় আমাদের দেহও কথা বলে। তাই নিজেকে উপস্থাপন করতে টনিকের কাজ করে আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। তেমনি অনেকক্ষেত্রে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ভূলে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে আপনার অমূল্য সম্পর্কও। অাবার এ ভূলে আপনি যা, ঠিক তার বিপরীতটা বুঝবে অনেকেই।
তাই আমাদের এ লেখায় রয়েছে বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কয়েকটি ভুল। এ ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে নিজেকে উপস্থাপন করা যাবে আর্কষনীয়ভাবে। এতে অন্যর কাছে আপনার গুরুত্ব ও উত্তম ব্যক্তিত্ব তুলে ধরবে চমৎকারভাবে।
প্রতিবেদনে আইএনসি বিষয়টি জানিয়েছে।
গালে বা মুখে হাত দিয়ে অনেকে চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসেন। কিন্তু আপনার যদি কথা বলার সময় নাক ও মুখে হাত দেওয়া অভ্যাস থাকে তাহলে তা ত্যাগ করুন।
কথাবার্তার সময় সীমিত পর্যায়ে মাথা ঝাঁকানো যেতে পারে। কিন্তু আপনি যদি অতিরিক্ত মাথা ঝাঁকান তাহলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার নানা আচরণে যদি অস্থিরতা প্রকাশ পায় তাহলে তা অন্য মানুষের জন্যও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। কারো সামনে কথাবার্তা বলার সময় সোজা হয়ে তার দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। এ সময়ে ঘাড় বাকানো সত্যিই দৃষ্টিকটু।
নিচু হয়ে বসা কিংবা মুখের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নিজেকে ছোট করা অনেকেরই অভ্যাস। এটি অন্যদেরও প্রভাবিত করে। তাই এমনটা করা উচিত নয়।
আপনি যদি মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনো বক্তব্য দেন বা পারফর্ম করেন তখনকার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু স্বাভাবিক কথাবার্তায় বড় অঙ্গভঙ্গি বিরক্তিকর। আপনার দেহের সঙ্গে পাও সোজা অবস্থায় থাকবে। কিন্তু আপনি যদি নাচের ভঙ্গিমায় পা ভুল দিকে নির্দেশ করেন তা দৃষ্টিকটু হতে পারে।
আপনি যদি কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় বসে থাকতে থাকতে চেয়ারে আরাম করে পেছনে হেলান দেন বা হেলে পড়েন তাহলে তার সঙ্গে কথাবার্তা শেষ হয়েছে কিংবা আপনি আর আগ্রহী নন এমনটাই বোঝায়। তাই কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলাকে যদি গুরুত্ব দিতে চান তাহলে সোজা হয়ে বসুন কিংবা সামনে ঝুঁকে থাকুন।
বাহু ক্রস করা বা আত্মরক্ষার ভঙ্গিতে হাত গুটিয়ে সামনে রাখা মূলত আলাপচারিতা শেষ করার ইঙ্গিত। এছাড়া একই ধরনের ইঙ্গিত দিতে পারে পা ক্রস করাও।
আপনি যদি কারো সঙ্গে কথা বলার সময় তার চোখের দিকে না তাকান তাহলে তিনি আপনাকে অসৎ বলে মনে করবেন। এ ছাড়া চক্ষু সংযোগ না করলে তা পারস্পরিক যোগাযোগও ঠিকভাবে করতে বাধার সৃষ্টি করে। এ কারণে চক্ষু সংযোগ গুরুত্বপূণ বিষয়।
অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগের সময় চক্ষু সংযোগ যেমন প্রয়োজনীয় তেমন তা যেন অতিরিক্ত না হয় সেজন্যও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত চক্ষু সংযোগ আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করে। এজন্য এক বা দুই সেকেন্ড চক্ষু সংযোগ করে তারপর তা নামিয়ে ফেলতে হবে। একটু পর পর তা আবার করতে হবে।
কথাবার্তা বলার সময় হাত শান্ত রাখা উচিত। আপনার যদি হাত কচলানো অভ্যাস থাকে তা বাদ দিন। কথাবার্তা বলার সময় আপনি যদি ঘড়ি বা মোবাইল ফোনের দিকে তাকান তাহলে বুঝতে হবে আপনি সময় বা অনুরূপ অন্য কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত।
কথাবার্তা বলার সময় কাউকে স্পর্শ করা অনেক সময় ভালো বিষয় হতে পারে। কিন্তু তা যদি শুধু আঙুল দিয়ে হয় তাহলে বিপরীত বিষয় হতে পারে।
কারো সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তার ‘পার্সোনাল স্পেস’ ঠিক রাখা উচিত। আপনি যদি তার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে যান তাহলে তিনি বিরক্ত হতে পারেন।
অনেকেই অভ্যাসবশত হাত পকেটে রাখেন। তবে এ অভ্যাস সব সময়ের জন্য হয়ে গেলে তা ক্ষতিকর। কথাবার্তার সময় বাতাসে হাত ছোড়া অনেকের অভ্যাস। তবে এ অভ্যাস মোটেই ভালা নয়। তাই ত্যাগ করাই উত্তম।


