আফগানিস্তান সংকটে ৬০ কোটি ডলার চেয়েছে জাতিসংঘ
চলতি বছরের ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের আগে সেখানকার এক কোটি ৮০ লাখ সাধারণ মানুষ ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এরপর খরা, অর্থ-খাদ্য ঘাটতির মধ্যে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে। আসন্ন মানবিক সংকট এড়াতে দাতাদের কাছে ৬০ কোটি মার্কিন ডলার চেয়েছে জাতিসংঘ। খবর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের।
এ লক্ষ্যে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি সাহায্য সম্মেলনের আহ্বান করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, আফগানিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতনের পর হাজার হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক অনুদান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশটিতে থাকা জাতিসংঘের কর্মসূচিগুলোর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু, জাতিসংঘ নিজেই এখন আর্থিক চাপে থাকায় তাদের পক্ষে অতিরিক্ত এ অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব জাতিসংঘ নিজের কর্মীদেরই বেতন দিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন। জেনেভা সম্মেলনে গুতেরেসসহ জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান পিটার মাওরার, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসসহ কয়েক ডজন দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্মেলনে দাতাদের কাছে চাওয়া মোট অর্থের প্রায় এক তৃতীয়াংশ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মাধ্যমে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৬০০ আফগানের মধ্যে তাদের চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের ৯৩ শতাংশই যথেষ্ট খাবার পাচ্ছেন না। কারণ, খাবার কেনার মতো নগদ অর্থ তাদের হাতে নেই। জাতিসংঘের আরেক এজেন্সি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ আবেদনের অংশ।


