নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন: সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন খারিজ
বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পিটিশনের শুনানি আগামী ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। খবর রয়টার্স ও এনডিটিভি।
আজ বুধবার ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ আজ পিটিশনের শুনানি করেন। বেঞ্চে থাকা অপর দুই বিচারপতি হলেন বি আর গাভাই ও সুরিয়া কান্ত। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আইনটি পাস হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ৬০টি বেশি পিটিশন দাখিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিজেপি সরকার সম্প্রতি ১৯৫৫ সালে প্রণীত দেশটির নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে নতুন একটি আইন পাস করেছে। এরপর থেকেই এ আইনের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আসামে কারফিউ ভেঙ্গে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামলে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে শরণার্থী হওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে এ আইন।
সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিলকৃদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান করা সংক্রান্ত নতুন এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী। যা সংবিধানের মুলনীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতা লঙ্ঘিত হবে, যা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
তারা আরও বলছেন, নতুন এই আইনের মাধ্যমে জাতির ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারকে দেশের সকল নাগরিকের সব রকম ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম সম্মান জানাতে হবে। কিন্তু এই আইন সর্বজনীন ধর্মনিরপেক্ষতার ওই নীতিকে লঙ্ঘন করে ধর্মীয়ভাবে দেশকে মেরুকরণ করবে।
গতকালও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে উত্তপ্ত ছিল দিল্লি। গতকার দুপুরে হাজারো বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষ রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল দিল্লির সিলামপুর-সাফরাবাদ এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারী ইট নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রচুর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং ঘোষণা দিয়েছেন তারা তাদের রাজ্যে নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রয়োগ ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রণয়ন করতে দেবেন না।
মমতা বলেন, তার লাশের উপর দিয়ে এ আইন প্রয়োগ করতে হবে সরকারকে। মমতা এই আইন প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে বলেন ,‘ যতক্ষণ না সিএএ প্রত্যাহার করা হবে, ততক্ষণ আমরা রাস্তায় থাকব।’ তবে ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব ইস্যুটি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে।


