English Version
আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫০

দক্ষিণ এশিয়ার ‘অলিম্পিক’ শুরু হচ্ছে আজ

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার ‘অলিম্পিক’ শুরু হচ্ছে আজ

আয়োজকরা প্রস্তুত, প্রস্তুত নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়াম। বর্ণিল আয়োজনে এখানেই আজ সাত দেশের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক’ খ্যাত এসএ গেমসের ত্রয়োদশ আসরের। ২৮টি খেলায় পদক জয়ের লড়াইয়ে নামবে অ্যাথলেটরা। এর আগে থাকছে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা। নানা আয়োজনের মধ্যে মার্চ পাস্টে অংশ নেবেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেটরা। মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বইবেন গত আসরে দুটো সোনার পদকজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।

বাংলাদেশ আর ভারতের পর তৃতীয়বার এসএ গেসমের আয়োজক নেপাল। ১৯৮৪ সালে গেমসের প্রথম আসর বসেছিল হিমালয়ের দেশে। এরপর ১৯৯৯ সালেও সফল আয়োজক ছিল নেপাল। তবে এবারের আসরের আয়োজন বেশ আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তারা। দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ৯ থেকে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৩তম এসএ গেমস। কিন্তু আয়োজকদের গাফিলতিতে সেটা আর হয়ে উঠেনি।

এসএ গেমস এ বছর হবে কি না, ঘোরতর সংশয় ছিল সেটা নিয়েও। পরবর্তী সময়ে সেই সংশয় কেটে গেছে, বাড়তি সময় পেয়ে এই ক্রীড়াযজ্ঞ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে নেপাল। আজ থেকে শুরু করে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই ক্রীড়াযজ্ঞ। ইভেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হবে কাঠমান্ডু, পোখারা আর জানকপুরে। মূলত কাঠমান্ডু আর পোখারাতেই থাকছে সব আয়োজন। ফুটবলসহ ১৭টি খেলা হবে কাঠমান্ডুতে, জানকপুরে হবে শুধু কুস্তির ইভেন্টগুলো। বাকি খেলা হবে পোখারায়।

আসরে ২৫টি খেলায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। নির্দিষ্ট করে বললে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে পদকের লড়াইয়ে নামবেন ৪৬২ জন অ্যাথলেট। এর মধ্যে ২৬৩ জন পুরুষ, ১৯৯ জন নারী। শেফ অব দ্য মিশন, চিকিৎসক, কর্মকর্তা আর কোচ মিলিয়ে বাংলাদেশের বহরটা বেশ বড়, ৬২১ জনের। ইতোমধ্যে এদের বেশিরভাগই পৌঁছে গেছে আয়োজক দেশ নেপালে। বাকিরাও পৌঁছে যাবেন সময়মতো। সাঁতার দল তো পৌঁছে গেছে সেই কবেই। তবে তাদের লড়াইটা এখনও শুরু হয়নি।

এক সাঁতারেই আছে ২০টি ইভেন্ট, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯টি ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্সে। অ্যাথলেটিক্স বরবারই বাংলাদেশের জন্য হতাশার এক নাম। তবে সাঁতার বরাবরই সম্ভাবনাময় এক ইভেন্ট। ভারতের শিলং আর গোয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত গত আসরে বাংলাদেশ যে চারটি সোনার পদক জিতেছিল, তার দুটোই এসেছিল সাঁতার থেকে। এবার এই খেলাটা থেকে আরও বেশি পদক জয়ের আশা ফেডারেশনের। সেই আশা পূরণে নেপালের ২৫ মিটার পুলের সঙ্গে সখ্য গড়তে আগেভাগেই দেশ ছেড়েছে সাঁতার দল। একটু আগেভাগে দেশ ছাড়তে হয়েছে ছেলে এবং মেয়েদের ভলিবল দলকেও। ইতোমধ্যে এই দুটো ইভেন্ট শুরুও হয়ে গেছে। মেয়েদের ভলিবল দল ব্যর্থ হলেও সেমিফাইনালে উঠেছে ছেলেদের ভলিবল দল। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আজ তারা পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলে গেমস শুরুর দিনেই অন্তত একটা পদক জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে লাল-সবুজের দলের। এবার এমন আরও অনেক পদকের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি ইভেন্টে শক্তিধর ভারত না থাকায় বাংলাদেশের সোনার পদক জয়ের সম্ভাবনা বেশ জোরালো হয়েছে।

এসএ গেসমে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১০ সালে, ঘরের মাঠে। সেবার ১৮টি সোনা, ২৩টি রুপা এবং ৫৬টি ব্রোঞ্জ জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হয়েছিল তৃতীয়। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকেনি ২০১৬ সালে শিলং আর গোয়াহাটি গেমসে। ৪টি সোনা, ১৫টি রুপা আর ৫৬টি ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। এবার পদকের সংখ্যাটা বাড়াতে দৃঢ়প্রত্যয়ী বাংলাদেশ। সেই প্রত্যয়ের কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। ভালো কিছুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কহিনুরও।

৮ বছর পর গেমসে ফিরেছে ক্রিকেট। ২০১০ আসরে সোনাজয়ী বাংলাদেশ এবারও সোনালি আভায় নিজেদের রাঙাতে মরিয়া। ক্রিকেটে ছেলেদের পাশাপাশি এবার থাকছে মেয়েদের ইভেন্টও। এই ইভেন্টেও সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার নেপালে গেছে সালমা খাতুনের বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন ছেলেদের দল নেপাল যাবে আজ। ফুটবলে অংশ নেবে না ভারত, ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও তাই সোনা জয়ের আশা দেখছে জামাল ভূইয়ার বাংলাদেশ। নেপালে পৌঁছে বেশ জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জেমি ডের শিষ্যরা। আগামীকাল ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের মিশন।

এসএ গেসমে এবার সোনার পদক জয়ের সবথেকে বেশি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র মনে করা হচ্ছে আরচ্যারিকে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই খেলায় নেই ভারতের কোনো প্রতিযোগী। গতবার নিজেদের মাটিতে আরচ্যারির ১০টি ইভেন্টের প্রতিটিতেই সোনা জিতেছিল ভারতের তীরন্দাজরা। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে বেশ কয়েকটি ইভেন্টে বাংলাদেশের তীরন্দাজরা পায় রুপা। ভারত না থাকায় এবার আরচ্যারির ১০টি ইভেন্টেই হট ফেভারিট মানা হচ্ছে রোমান সানা-বিউটি রায়-সজীবদের বাংলাদেশকে।

সবশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হয়ে সরাসরি ২০২০ অলিম্পিকে সুযোগ করে নেওয়া রোমানকে ঘিরেই বড় স্বপ্ন বাংলাদেশের। জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনে সময়টা দারুণ কাটছে বাংলাদেশের তীরন্দাজদের। যদিও থাইল্যান্ডে সদ্য শেষ হওয়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সুবিধা করে উঠতে পারেননি তারা। এবার নেপালের ঠান্ডা আবহাওয়া আর তীব্র বাতাসের মধ্যে ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে রোমানদের। সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতেও খুব একটা সময় পাননি তারা। শঙ্কা যা তা শুধু এইটুকুতেই।

অন্যথায় তীরন্দাজদের জন্য দারুণ কিছুই অপেক্ষা করছে পোখারায়। আরচ্যারি, ক্রিকেট আর ফুটবলেই নয়, বাংলাদেশ এবার সোনার পদকের হাতছানি দেখছে ভালোত্তোলন, কাবাডি, সাঁতারসহ আরও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে। এখন দেখার সেই হাতছানি বাস্তবরূপ পায় কি না।