মুদ্রা পাচার রোধে ইনভেস্টর ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুবিধা সংবলিত বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দেয়া ‘গোল্ড-প্লেটেড’ ভিসা স্কিম স্থগিত করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। আর্থিক অপরাধ মোকাবেলার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে থেকে আসা ধনীদের যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য ২০০৮ সালে টিয়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসা চালু করা হয়। এদিকে অর্থ পাচারের কাজে স্কিমটির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, ভিসা ব্যবস্থাটি নিয়ে অডিট প্রক্রিয়া চালুর পর এ স্থগিতাদেশ বাতিল করা হতে পারে। অভিবাসনমন্ত্রী ক্যারোলিন নোকস বলেন, যারা নিয়ম অনুসরণ করবে না এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে, আমরা তাদের সহ্য করব না। গতকাল মধ্যরাত থেকে ভিসাটির স্থগিতাদেশ কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নোকস আরো বলেন, প্রকৃত বিনিয়োগকারী, যারা যুক্তরাজ্যের ব্যবসাকে সহায়তা করবেন, কেবল তারাই যেন আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
২০০৮ সালে চালুর পর ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক (১ হাজার ১৭২টি) টিয়ার ওয়ান ইনভেস্টর ভিসার আবেদন মঞ্জুর করা হয়। গত বছর এ সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৩৫০টিতে। এর মধ্যে চীন ও রুশ বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন।
পূর্বশর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে যুক্তরাজ্যের ব্যাংকে অবশ্যই একটি হিসাব থাকতে হবে, একই সঙ্গে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে স্বতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিটররা আবেদনকারীর আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ মূল্যায়ন করবেন এবং কমপক্ষে দুই বছর তাদের তহবিলগুলো নিয়ন্ত্রণে ছিল কিনা, তা যাচাই করে দেখবেন। সফল আবেদনকারীরা তিন বছর চার মাস মেয়াদি ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এ মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো যাবে।
২০১১ সালে এ স্কিমের আওতায় খুবই ‘যোগ্য’ বিনিয়োগকারীর আগমন আশা করেছিল যুক্তরাজ্য সরকার। যারা অন্তত ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার (১ কোটি পাউন্ড) দেশটিতে ব্যয় করবে তাদেরকে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় ছাড়ের আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু তিন বছর পর মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি জানায়, অধিকাংশ আবেদনকারী যোগ্যতা অর্জনের জন্য কেবল গিল্ট সিকিউরিটিজ (যুক্তরাজ্য সরকারের ইস্যুকৃত বন্ড) কেনায় স্কিমটি ব্রিটিশ নাগরিকদের সামান্য স্বার্থই রক্ষা করতে পারছে। যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগের বদলে ব্রিটিশ সরকারকে ঋণ দিয়ে এ সুবিধা নিচ্ছিল অধিকাংশ বিনিয়োগকারী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে সমর্থনে ভবিষ্যতে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ সংগ্রহের নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।


