খাসোগি ইস্যুতে সিআইএর মূল্যায়ন বিশ্বাসযোগ্য নয় —সৌদি যুবরাজ তুর্কি আল ফয়সাল
ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর মূল্যায়ন বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করছেন তুর্কি আল ফয়সাল নামে এক জ্যেষ্ঠ সৌদি যুবরাজ। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা।
শনিবার আবুধাবিতে বৈরুত ইনস্টিটিউট নামে একটি থিংক ট্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে রাজপরিবারের এ জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, ‘কোনো ঘটনা মূল্যায়নে বা বিষয়ের সত্যতা নির্ধারণে সিআইএ অবশ্যই সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্য কোনো কর্তৃপক্ষ নয়। তারা অতীতে বেশ কয়েকবার দেখিয়েছে কীভাবে তাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’ সৌদি আরবের গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক এই প্রধান বলেন, ২০০৩ সালে ইরাকের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে বলে সিআইএ যে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদন একটা পুরো মাত্রার যুদ্ধ ও হাজার হাজার লোককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এ কারণে খাসোগি হত্যার ঘটনায় সিআইএর মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা তুর্কি আল ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি ভেবে পাচ্ছি না কেন যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের সম্মুখীন হয়নি সিআইএ।
খাসোগিকে ক্রাউন প্রিন্সের নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে বলে সিআইয়ের মূল্যায়ন নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে সিআইএর মূল্যায়নকে ‘অপরিপক্ব কিন্তু সম্ভবপর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া খাসোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা শুরু থেকেই নাকচ করে আসছিলেন ট্রাম্প, যার কারণে দলে ও দলের বাইরে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। খাসোগি হত্যার জেরে সৌদি আরবের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জোরালো হলেও তাতে সায় দেননি ট্রাম্প। তিনি দাবি করে আসছেন, দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আরো অনেক উপায় রয়েছে। অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও মনে করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার এক তুর্কি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাসোগির ‘মুখ বন্ধ করে দেয়ার’ নির্দেশনা-সংক্রান্ত একটি ফোন কলের রেকর্ড সিআইএর হাতে রয়েছে বলে তুর্কি কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিআইএ পরিচালক জিনা হ্যাসপেল।
বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর খাসোগিকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা ও মরদেহ গুম করার নির্দেশ সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকেই এসেছিল বলে অভিযোগ করে আসছে আঙ্কারা। প্রথমে রিয়াদ এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বিবৃতি দিলেও শেষে স্বীকার করে, খাসোগিকে সৌদি আরব ফিরিয়ে নিতে রাজি করানোর চেষ্টার একপর্যায়ে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে; পরে তার মরদেহও সরিয়ে ফেলা হয়।


