English Version
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:২৯

২০১৭ সালে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বেড়েছে ২০ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
২০১৭ সালে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বেড়েছে ২০ শতাংশ

পৃথিবীর সব দেশেই ধনীরা আরো ধনী হচ্ছেন বলে একটা ধারণা প্রচলিত আছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও এমন ধারণার সত্যতা মিলেছে। সুইস ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে বিলিয়নেয়াররা ২০১৭ সালে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো বিত্তের মালিক হয়েছেন। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর বিশ্বের ধনীদের সম্পদের পরিমাণ এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে (৬ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বিংশ শতকের পৃথিবীতে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় নাম ছিল বিখ্যাত বেশকিছু পরিবারের। যাদের অন্যতম হচ্ছে রথচাইল্ড, রকফেলার, ভ্যান্ডারবিলটস। সে সময়ের অর্থবিত্তের সিংহভাগের নিয়ন্ত্রণে ছিল এসব পরিবারের হাতে। আজকের দিনের অতিধনীদের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির হার গত শতকের তুলনায় আরো অনেক বেশি।

সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস ও অ্যাকাউন্টিং ফার্ম পিডব্লিউসি কর্তৃক তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিধনীদের কাছে এত পরিমাণ অর্থ রয়েছে যে, ধনী ও প্রভাবশালী একাধিক প্রজন্মের পরিবারের নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে।

ইউবিএস বিলিয়নেয়ারস ২০১৮ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গিল্ডেড যুগের’ তুলনায় গত ৩০ বছরে অনেক বেশি সম্পদ সৃষ্টি লক্ষ করা গেছে। ওই যুগে ইউরোপ ও আমেরিকায় এমন কিছু প্রভাবশালী পরিবারের উদ্ভব হয় যারা পরবর্তী ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা, ব্যাংকিং, রাজনীতি, মানবহিতকর কার্যক্রম এবং শিল্পকলায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ২ হাজার ১৫৮ জন বিলিয়নেয়ারের গত বছর সম্মিলিতভাবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা স্পেন বা অস্ট্রেলিয়ার জিডিপির চেয়েও বেশি। মূলত শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিই অতিধনীদের সম্পদ মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ।

গত বছর ১৭৯ জন নতুন বিলিয়নেয়ারের মধ্যে ৪০ জন তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী ২০ বছরে ৭০ জনের বেশি বিলিয়নেয়ারের কাছে ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদের মালিকানা হস্তান্তরিত হবে।

প্রতিবেদন মতে, সম্পদ হস্তান্তরে বড় ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত পাঁচ বছর উত্তরাধিকারদের কাছে সম্পদ হস্তান্তরের হার গড়ে প্রতি বছর ১৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে হস্তান্তরিত সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

এ হিসাবটি জটিল কিছু নয়। ৭০ বছরের বেশি বয়সী বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৭০১ জন। পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ২০ বছরের মধ্যে এ বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ তাদের উত্তরাধিকার ও মানবহিতকর কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হবে। ৭০ বা তার বেশি বয়সী ৩০ জন ধনীর সম্মিলিত আয়ের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়নেরও বেশি।

১৯১৬ সালে বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার হিসেবে খেতাব অর্জনকারী জন ডি রকফেলারের শেষ বংশধর ডেভিড রকফেলার গত বছর ১০১

বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩০৩ কোটি ডলারের সম্পদ রেখে যান। রকফেলার ও তার স্ত্রীর সংগ্রহে থাকা বিশ্বখ্যাত শিল্পকর্মের তালিকায় ছিল মনে, মাতিস ও পিকাসোর মতো বিখ্যাত শিল্পীর কাজ। ওইসব বিখ্যাত সংগ্রহ নিলামে তুলে পাওয়া আরো ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার মানবহিতকর কাজে ব্যয়ের জন্য দান করা হয়।

ইউবিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম প্রজন্ম সম্পদ গড়ে তোলে, দ্বিতীয় প্রজন্ম ওই সম্পদ ধরে রাখে আর তৃতীয় প্রজন্ম তা উড়িয়ে দেয়ার প্রচলিত প্রবাদ এখন আর কার্যকর নয়। বরং দেখা গেছে কিছু পরিবার পাঁচ থেকে ছয় প্রজন্ম পর্যন্ত তাদের বিত্ত-বৈভব ধরে রেখেছে। এমনকি তাদের কেউ আবার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ বাড়িয়ে নিয়েছে।

প্রতিবেদনে ইউবিএস জানায়, বিলিয়নেয়ার গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করার সুবাদে আমরা দেখেছি পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই তাদের ক্যারিয়ার, পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে খুব উৎসাহী এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রতি অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রতিবেদনের গবেষকদের এক বিলিয়নেয়ার বলেন, ইন্টারনেটের যুগে জন্মগ্রহণ করা নতুন প্রজন্ম ঝুঁকি নিতে আরো বেশি আগ্রহী। তাদের কাছে অনেক তথ্য আছে, ফলে তারা নতুন কিছু চেষ্টা করতে ও উদ্যোক্তা হতে অনেক বেশি সাহসী।