যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষমূলক হামলা বাড়ায় হুমকির মুখে বাংলাদেশিরা
গত বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিদ্বেষী হামলা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই’র গবেষণায় পাওয়া এ তথ্য প্রকাশ করেছে পিউ রিসার্স সেন্টার। নিউইয়র্ক সিটি কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের তথ্য মতে অভিবাসী ও মুসলমানদের উপর বিদ্বেষমূলক হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, যেকোনো বিদ্বেষমূলক হামলা রুখতে কাজ করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষমূলক হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রতিরোধে বিশেষ করে মুসলিম ও অভিবাসী কমিউনিটিকে সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে নিউইয়র্কের নগর প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন নিউইয়র্কের পুলিশ প্রধান।
নিউইয়র্ক পুলিশের প্রধান ও নীল বলেন, বিদ্বেষমূলক হামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আমাদের পুলিশ প্রশাসন। এর পাশাপাশি কমিউনিটির সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও কাজ করছি আমরা।
বিদ্বেষমূলক হামলা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মুসলমানদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, এখানে মুসলমান নামধারী কিছু সন্ত্রাসী তৈরি হয়েছে। তাদের হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারাই মুসলমানদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। তাই আমাদের একটু সাবধানে চলাচল করতে হবে।
নিউইয়র্ক পুলিশের পারসোনাল ব্যুরো’র প্রধান জোয়ান জেফি সময় নিউজকে বলেন, বিদ্বেষমূলক হামলার বিরুদ্ধে সব সময় কাজ করছে প্রশাসন। হেট ক্রাইম এবং বায়াস ক্রাইমের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশী বলে মন্তব্য করেন নিউইয়র্ক সিটি কমিশন অন হিউম্যান রাইটস।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য মতে, ২০১৬ সালের মোট বিদ্বেষমূলক হামলার শতকরা ৫৮ দশমিক ৯ ভাগ ‘বায়াস মোটিভেশনাল’ হেট ক্রাইম। এরমধ্যে ২১ দশমিক ১ ভাগ ধর্ম বিদ্বেষমূলক। সিঙ্গেল বায়াস হেট ক্রাইমের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪২৬। এশীয় বিদ্বেষী হেট ক্রাইমের হার ছিল ৩ দশমিক ১ ভাগ। আর ৫ দশমিক ৭ ভাগ ছিল মুসলিম ব্যতীত অন্য ধর্ম বিদ্বেষী অপরাধ।


