অভিবাসন রুখতে ডিভি কর্মসূচি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের
গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই দেশটি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়া এবং বৈধ অভিবাসন রোখার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কোনো সুযোগ পেলেই তিনি এ বিষয়ে হুমকি-ধমকি শুরু করেন। নিউইয়র্কে গাড়ি হামলাকারী আবদুল্লা সাইপভ একজন অভিবাসী। তিনি ডিভি জিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত মঙ্গলবারের গাড়ি হামলার অভিবাসন রুখতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা আবার যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রথম ব্যবস্থা হবে অভিবাসন আইন কড়াকড়ি করা। তবে তাঁর এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে বিরোধী ডোমোক্র্যাটরা।
হামলার পরদিন গত বুধবার ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) কর্মসূচি বন্ধের হুমকি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া ভিসা কর্মসূচির কারণেই হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন। এই কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে আমি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাব। আমাদের আরও কঠোর হতে হবে। আমাদের আরও তীক্ষ্ণ হতে হবে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর চাক শুমার ১৯৯০ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকা অবস্থায় ডিভি কর্মসূচি চালুর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন। লটারির মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫০ হাজার জনকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের স্থায়ীভাবে বসবাসেরও অনুমতি দেওয়া হয়।
বুধবার ট্রাম্প ‘মেধাভিত্তিক’ ভিসাব্যবস্থার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে তিনি ‘চেইন মাইগ্রেশন’-এর ব্যাপারে চিন্তা করতে বলেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় বৈধ অভিবাসীরা স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন করতে বলেন।
নিউইয়র্কে হামলার পর টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশে আসছে, যা মূলত চাক শুমারের “অবদান”।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, ট্রাম্প আসলে সিনেটর চাক শুমারকে আক্রমণ করতে চাননি। অভিবাসন আইন কড়াকড়ি করার ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে প্রেসিডেন্ট বরং পছন্দই করবেন।
ভিসা কর্মসূচি বন্ধের ব্যাপারে রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন করনাইনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা করার আগে কংগ্রেসকে অবশ্যই এমন একটি আইন পাস করতে হবে, যার মাধ্যমে শিশু বয়সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের (ড্রিমারস) সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।


