কোহলির সাথে মোদির পাল্লা!
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের ভোট উপলক্ষে রাজ্যের যখন যেখানে সভা করতে যাচ্ছেন মঞ্চ সাজানো হচ্ছে মহাভারতের সেটের কায়দায়। মন্ত্রী, পারিষদ এক দিকে আর অন্য দিকে সাধু, সন্ত, আচার্য। ফুলের ধারা ও নমো-নমো মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে শুরু হয় দীর্ঘ ও অলঙ্কারময় বক্তৃতা।
এক মঞ্চে শেষ হলে অন্য মঞ্চ। কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবার তৈরি হয় মঞ্চ। আবারও দীর্ঘ বক্তৃতা। রাজ্যে এভাবে বিরামহীন ঘুরে ঘুরে সভা করে যাচ্ছেন মোদি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোট সামনে রেখে দলের তারকা প্রচারক তো এভাবে সভা করবেনই। বিশেষ করে গুজরাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা- যেটা কিনা মোদির নিজের রাজ্যও বটে। কিন্তু এর সঙ্গে কিছু মুখরোচক গুঞ্জনও উঠছে। যেমন- মোদি এখন রাজনীতির বিরাট কোহলি। বক্তৃতার গড়ে বাকি সবাইকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন। তার বক্তৃতার সংখ্যা হারিয়ে দিয়েছে পূর্বসূরি মনমোহন সিংহকেও। মোদি'র পাল্লা চলছে কোহলির।
মোদীর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ৪১ মাসে তিনি ৭৭৫টি বক্তৃতা দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে শপথ নেওয়ার পর থেকে তার বক্তৃতার গড় প্রতি মাসে ১৯টি। অর্থাৎ অংকের হিসাবে প্রতি তিন দিনে ২টি করে বক্তৃতা দিয়েছেন। প্রতিটি বক্তৃতার গড় সময় ৩০ মিনিট।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেননি মোদি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেননি। কিন্তু একমুখী বক্তৃতা ও রেডিওর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে শুনিয়ে গিয়েছেন তার ভবিষ্যৎ প্রকল্প, স্বপ্ন, কর্মপন্থা ও পরিকল্পনার কথা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের মতে, তার বাগ্মিতা ঈশ্বরপ্রদত্ত। যে কোনো বিষয় আত্মস্থ করে নিজের মতো করে বলতে পারেন।
তার রেকর্ডের পাশে রাখা যায় মনমোহন সিংহকে? ইউপিএ'র দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ বছরে তিনি দিয়েছেন মোট ১ হাজার ৪০১টি বক্তৃতা। আর মাত্র তিন বছরে যার অর্ধেক পেরিয়ে গিয়েছেন মোদি। কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীশ তিওয়ারি এই বাগ্মিতার সমালোচনা করে বলেন, মোদি এমন এক দুনিয়ায় বাস করেন যেখানের প্রধান মন্ত্র হলো, আমি যা বলি সেটাই আমার প্রশাসন। ফলে সরকারের আসল কাজকর্ম হারিয়ে যাচ্ছে তার কথার বোঝায়।
দেখা গেছে, মোদি ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৬৪টি বক্তৃতা দিয়েছেন। ওই বছর সবচেয়ে বেশি বিদেশ সফর করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে একের পর এক বক্তৃতা দিয়েছেন। বিরোধী দলগুলো অবশ্য মনে করে এর মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে। কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধন করে অনাবাসী অনলাইন ভোটব্যাংক তৈরির কৌশল এটি।
এসব রাজনীতির তর্ক। তবে এসবের মাধ্যমে মোদিকে থামানো যাচ্ছে না।


