উত্তর কোরিয়ার জন্য ওষুধ একটাই : ট্রাম্প
উত্তর কোরিয়া আক্রমণ করার প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার কথা বলেননি তিনি। কিন্তু গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের বেশ কিছু পদক্ষেপ এবং কথাবার্তায় যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। বলছে ওয়াকিবহাল মহল। একটাই ওষুধ কাজ করবে উত্তর কোরিয়ার জন্য-শনিবার টুইটারে অনেকটা এমনই লিখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জনং-উন বলেছেন মার্কিন হুমকির একমাত্র জবাব হচ্ছে পরমাণু অস্ত্র। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসে আমেরিকার শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলেছেন ট্রাম্প। সেই ছবি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে ট্রাম্পের মন্তব্য, এই ছবির অর্থ কী, নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। তবে কি যুদ্ধ ঘোষণার পথেই ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব, খুব তাড়াতাড়িই সবটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
অন্যদিকে গত শনিবার বিকেলে দুটি টুইট করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টরা এবং প্রশাসনিক কর্তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ২৫ বছর ধরে আলোচনা চালাচ্ছেন, অনেক চুক্তি করা হয়েছে, বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে... কাজ হয়নি, চুক্তিপত্রে হস্তাক্ষরের কালি শুকনোর আগেই চুক্তি ভাঙা হয়েছে, আমেরিকাকে বোকা বানানো হয়েছে। আমি দুঃখিত, কিন্তু একটাই মাত্র জিনিসে কাজ হবে।’
আলোচনা বা চুক্তিতে কাজ হবে না, উত্তর কোরিয়ার জন্য কাজ করবে একটাই মাত্র ওষুধ- এই বার্তার অর্থ কী? তোলপাড় শুরু হয়েছে আমেরিকায়। চাঞ্চল্য আন্তর্জাতিক মহলেও। তাহলে কি যুদ্ধের পথেই হাঁটতে চলেছেন ট্রাম্প? বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাইসে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠক করেন। তার পরে সামরিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ছবিও তোলেন। সেই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল।
ট্রাম্প মার্কিন মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন এই ছবির অর্থ কী।’ ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, ‘হতে পারে এটা ঝড়ের আগের শান্তি।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এরপর মার্কিন মিডিয়ার তরফে বারবারই জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছেন। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জবাব দেননি। কখনো বলছেন, ‘আপনারা বুঝতে পারবেন।’ কখনো বলেছেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই আপনারা সব জানতে পারবেন।’ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রও সেই সুরেই বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কী করতে চলেছেন, তা আমরা আগে থেকে কিছুতেই জানাব না।’
স্বাভাবিকভাবেই জোর জল্পনা চলছে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সুরও বরাবরই চড়া। কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে আগেও একাধিকবার হুশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের সেই সব হুশিয়ারিতে যুদ্ধের প্ররোচনা রয়েছে বলে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করেছে। উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখা গেলেই তা গুলি করে নামানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও মন্তব্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে যুদ্ধের আশঙ্কা।
পরমাণু অস্ত্রই মার্কিন হুমকির সেরা জবাব, পাল্টা তোপ কিমের : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার টুইটারে লিখেছিলেন, ‘২৫ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট এবং প্রশাসনিক কর্তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। অনেক চুক্তি করা হয়েছে। বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। উত্তর কোরিয়া একটা মাত্র ভাষা বোঝে।’ আর সেই টুইটের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকার বিরুদ্ধে কার্যত পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়ে দিলেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বললেন, ‘মার্কিন হুমকির একমাত্র জবাব পরমাণু অস্ত্র দিয়েই দেওয়া সম্ভব।’
গত শনিবার ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডবলুপিকে) কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকেই ডবলুপিকের চেয়ারম্যান কিম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে বলেন, ‘আমেরিকা গু-াগিরি করে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আমাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসলে যুদ্ধপিপাসু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেন না। একমাত্র পরমাণু অস্ত্র দিয়েই এই হুমকির জবাব দেওয়া সম্ভব।’ তবে, যুদ্ধ বাধালে আমেরিকার বিপুল ক্ষতি হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন কিম। বৈঠকে কিম দাবি করেছেন, আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করছে। এর পরই কিমের হুমকি, যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে জবাব দিতে প্রস্তুত পিয়ংইয়ং।
কিমের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রে চাপা উদ্বেগে আমেরিকা : সূত্রের খবর, আমেরিকাকে নিশানায় রেখে ফের কোমর বাঁধছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি পিয়ংইয়ং থেকে ফিরে এমনটাই দাবি করল রুশ পার্লামেন্টের তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল। তাদের দাবি, পিয়ংইয়ং থেকেই যাতে আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে হামলা চালানো যায়, এমনই এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে কিম জং উনের দেশ। যদিও উত্তর কোরিয়া কবে সেই পরীক্ষা চালাবে, তা স্পষ্ট করেনি রাশিয়া।


