আইএসের শেষ ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ইরাকী বাহিনী
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলে থাকা শেষ ঘাঁটি তাল আফার পুনরুদ্ধারে অভিযানে নেমেছে ইরাকী সেনাবাহিনী। গত জুলাই মাসে আইএসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মসুল দখলের পর এবার তাল আফার অভিযানে নামলো ইরাক। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জিহাদীদের উদ্দেশ্যে বলেন, হয় ‘আত্মসমর্পণ কর, নয়তো মর’।
তাল আফার মূলত শিয়া-মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৪ সালে আইএস এলাকাটির দখল নেয়। মসুল এবং সিরিয়ার মাঝের এই এলাকাটি ছিল জিহাদি গ্রুপটির রসদ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট। স্থল অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে ইরাকী বাহিনী আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করছিল।
রবিবার (২০ আগস্ট) কালো রঙয়ের সামরিক পোশাক পরা প্রধানমন্ত্রী আল আবাদি ইরাকী পতাকা এবং একটি মানচিত্রের সামনে দাঁড়িয়ে ‘তাল আফার মুক্ত করার অভিযান শুরু’র ঘোষণা দেন।
তিনি তার বক্তব্যে ইরাকী সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের সাথে সারা পৃথিবী আছে।’ আল আবাদির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকী বিমান বাহিনী শহরের বাসিন্দাদের যুদ্ধের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আকাশ থেকে লিফলেট ছাড়ে। যেখানে লেখা ছিল, ‘যুদ্ধ আসন্ন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় নিশ্চিত’।
তাল আফারকে দক্ষিণ দিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে ইরাকী সেনাবাহিনী এবং শিয়া মিলিশিয়ারা আর উত্তর দিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে কুর্দি জাতীয়াতাবাদীদের একটি গেরিলা বাহিনী।
একসময় তাল আরাফের মেয়রের দায়িত্ব পালন করা একজন ইরাকী কমান্ডার গত মাসে জানান, দেড় থেকে দুই হাজার জঙ্গি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা শহরটি ছেড়ে পালিয়েছে।
মেজর জেনারেল নাজম আল-জাবোরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, জিহাদীরা মনোবল হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা মসুলের মতো আর একটি ভয়াবহ যুদ্ধ এ শহরে আশা করেনি। মসুলের যুদ্ধ শেষ হতে নয় মাস সময় লাগার পাশাপাশি ইরাকি বাহিনীকে পড়তে হয়েছিল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে। গত এপ্রিল থেকে যুদ্ধের আশঙ্কায় এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার অধিবাসী শহরটি ছেড়ে পালিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি


