পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বাবর ৩-এর সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পরমাণু অস্ত্রবহণে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বাবর ৩–এর সফল পরীক্ষা করল পাকিস্তান। এই প্রথম এই ধরনের পরীক্ষা চালাল ইসলামাবাদ। সাবমেরিন থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারবে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি সেনার জনসংযোগ বিভাগ।
সোমবার ভারত মহাসাগরের তলদেশে কোনো অজ্ঞাত জায়গায় এই পরীক্ষা চালানো হয়। এর ফলে পাকিস্তানি নৌবাহিনী আরো শক্তিশালী হয়ে গেল। ডিসেম্বরে বাবর ২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছিল তারা। বাবর ৩ আরো বিধ্বংসী।
দেশটির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসএলসিএম প্রযুক্তির এই ক্ষেপণাস্ত্র পানির নিচে থেকেই পরিচালনা করা যাবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারবে। দিক ঠিক রাখার জন্য এতে থাকছে গ্লোবাল নেভিগেশন, টেরেন এবং ম্যাচিং সিস্টেম প্রযুক্তি। এর ফলে সমুদ্রের মধ্যে লুকিয়ে স্থলের কাছে গিয়েও আঘাত করতে পারবে বাবর ৩।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বাবর ৩–এর সফল উৎক্ষেপণের জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাবর ৩–এর সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বনির্ভর করল।’
ভারতের এই ধরনের পরমাণু অস্ত্রবহণ সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘নির্ভয়’ তিনের মধ্যে দু’টি পরীক্ষায় সফল হয়নি। সফল হয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কে–৪ সাবমেরিন ‘অরিহন্ত’। যেকোনো সময়েই এটি নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং এর পাল্লা ৩,৫০০ কিলোমিটার।
পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে। দুটি দেশই ১৯৯৮ সালের মে মাসে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর থেকে বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে আসছে।
পাকিস্তানের বাবর-৩ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারত এর আগে ২০০৮ সালে সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ২০১৩ সালে সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।


