English Version
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০১৬ ১০:২৯

আত্মহত্যার আগে মোদিকে রক্তে লেখা চিঠি পাঠালেন এক খেলোয়াড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আত্মহত্যার আগে মোদিকে রক্তে লেখা চিঠি পাঠালেন এক খেলোয়াড়!

রিও অলিম্পিকে যখন ভারতীয় মেয়েদের অগ্রযাত্রা চলছে তখন এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল দেশটিতে। পাঞ্জাবের পাটিয়ালায় পূজা কুমারী নামে জাতীয় পর্যায়ের তরুণী হ্যান্ডবল খেলোয়াড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় হতবাক সারা ভারত। যখন সবাই মেয়েদের সাফল্য নিয়ে মাতামাতি করছে তখন এই সাফল্যের পেছনে মেয়েদের যে কতটুকু সংগ্রাম করতে হয় তা জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন দরিদ্র ক্রীড়াবিদ পূজা। পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০ বছর বয়সী পূজা খাসলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরিবারের দাবি, তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনামূল্যে হোস্টেলে থাকার সুবিধা না পাওয়ায় আত্মঘাতী হয়েছেন। গত শনিবার সকালে পূজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তার বাবা-মা। আত্মহত্যার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে রক্ত দিয়ে চার পাতার সুইসাইড নোটও লিখে যান ওই ছাত্রী। জানান, দারিদ্র্যের জন্যই এই পথ বেছে নিতে হচ্ছে তাকে। কারণ কলেজের হোস্টেলে থাকার মতো টাকা তিনি জোগাড় করতে পারেননি। তার মতো আর্থিক ভাবে অসহায় মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন পূজা।

চিঠিতে খালসা কলেজের শারীরশিক্ষা বিভাগের প্রধান গুরশরণ সিং গিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন পূজা। এ বার কলেজের হ্যান্ডবল, কবাডি ও হকি খেলোয়াড়রা মেডেল না জেতায় গুরশরণ তাদের হেনস্থা করছিলেন বলে অভিযোগ পূজার। ওই প্রধান অনেককেই হোস্টেলে ঘর দিতে অস্বীকার করেন। পূজাকে বাড়ি থেকেই কলেজে আসার নির্দেশ দেন গুরশরণ।

সুইসাইড নোটে আরও রয়েছে, রোজ কলেজ যেতে মাসে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি টাকা খরচ হয়। এত পরিমাণ টাকা তার সবজি বিক্রেতা বাবার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। হোস্টেলে ঘর না পাওয়ার পর থেকেই মুষড়ে পড়েন তিনি। সব ঠিক হয়ে যাবে বলে বাবা ভরসা দিলেও পূজা স্বস্তি পায়নি। মেয়ে এমন চরম পথ বেছে নেবে, ভাবেননি বাবা।

অভিযোগের ভিত্তিতে গুরশরণের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পূজাকে খেলোয়াড়দের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিনামূল্যে ভর্তি নেওয়া হয়। এই মৌসুমে ভালো খেলায় তাকে হোস্টেল ছেড়ে দিতে বলা হয়।