হিলারির নির্বাচনী প্রচারের বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক বিজ্ঞাপন বানিয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে তৈরি করা ওই বিজ্ঞাপনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। ট্রাম্পকে ঘায়েল করতে তাঁর বাণিজ্যনীতির স্ববিরোধিতার প্রসঙ্গে ওই বিজ্ঞাপনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে সামনে নিয়ে আসা হয়। এদিকে হিলারি ক্লিনটনকে আইএসের প্রতিষ্ঠাতা বলে মন্তব্য করেছেন সব সময় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে ফ্লোরিডার ডোটিনা সৈকত এলাকায় দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ‘মুক্ত বাজার’-এর বিপরীতে রক্ষণশীলতার ধারণা প্রচার করে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অন্য দেশ থেকে সস্তা শ্রম কিনতে গিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নস্যাৎ করেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম স্লোগান হলো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থাৎ ‘সবার আগে আমেরিকা’। তবে বাণিজ্যনীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ হলো তিনি একদিকে মুক্তবাজারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, অন্যদিকে সস্তা শ্রমের বিভিন্ন দেশে পণ্য বানিয়ে নিজ ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করেন। এ ঘটনার প্রমাণ মেলে মার্চ মাসে ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। সেখানে দেখানো হয়, মুখে সবার ওপর আমেরিকা বললেও সস্তা শ্রমের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে মুনাফা অর্জনের স্বার্থের প্রতি সজাগ ট্রাম্প। এ নিয়ে বারবার ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন হিলারি। এবার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে সেই স্ববিরোধিতার বিদ্রূপাত্মক বিজ্ঞাপন হাজির করা হলো। আর সেই বিজ্ঞাপনে বিদেশে প্রস্তুতকৃত পণ্য নিয়ে দৃষ্টান্ত হাজির করতে গিয়ে তৈরি পোশাকের কথা উঠে আসে। আর তৈরি পোশাকের কথা উঠে আসার কারণেই সম্ভবত অপরিহার্যভাবে বাংলাদেশের কথা বলা হয়। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক রেকর্ড এবং তার আউটসোর্সিংয়ের ব্যবহারের প্রসঙ্গকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন বিজ্ঞাপনটি তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের শুরুতে গত জুনে ডেভিড লেটারম্যানকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের ক্লিপ তুলে ধরা হয়। ক্লিপে দেখা যায়, ডেভিড লেটারম্যান ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘এই শার্ট কোথায় তৈরি?’ এমন প্রশ্নে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ‘কী জানি, হবে কোথাও। তবে এগুলো খুব চমৎকার।’ সে সময় স্ক্রিনে কিছু শব্দ ভেসে ওঠে। বলা হয়, এগুলো কোথায় তৈরি হয়েছে তা তিনি জানেন। এরপর ভিডিওতে খুব ক্লোজ করে শার্ট দেখানো হয় এবং বলা হয়, পোশাকগুলো বাংলাদেশে তৈরি। তখন ট্রাম্পকে বলতে দেখা যায়, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। সে দেশের মানুষেরও তো কাজের সুযোগ চাই।’ এরপর আবারও পর্দায় কিছু শব্দ ভেসে ওঠে। বলা হয়, ‘১২টি দেশে আউটসোর্সিং কর্মসংস্থান করেছেন।’ এরপর ডেভিড লেটারম্যানকে টাই ঝুলিয়ে বলতে দেখা যায়, ‘এগুলো চীনে তৈরি’। এরপর বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ট্রাম্প অসহায়ত্ব বোধ করছেন। আর তখন পর্দায় ভেসে ওঠে তাঁর নির্বাচনী স্লোগান—‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’। তবে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ট্রাম্প মুখে মুখে ‘সবার আগে আমেরিকা’ বললেও নিজে আমেরিকায় তৈরি পণ্য বাজারজাতকরণের বদলে বাংলাদেশ ও চীনের মতো দেশে তৈরি পণ্য নিয়ে বাণিজ্য করছেন। বুধবার ডেনভারে টাই প্রস্তুতকারী একটি কারখানা পরিদর্শন করেন হিলারি। সে সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিদেশ থেকে না কিনে ডেনভারে তৈরি টাই কেন কেনেন না ট্রাম্প? কেন তিনি চীন থেকে টাই তৈরি করান?’ উল্লেখ্য, গত মার্চে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাজির করা নানা তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষাৎকার থেকে ট্রাম্পের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট হয়। সেখানে বলা হয়, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করেছেন, বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে যাঁরা সস্তা শ্রম কিনে থাকেন। নিজের নামাঙ্কিত পোশাক বাজারজাত করতে মানসম্পন্ন মারচেন্ডাইজিং প্রতিষ্ঠান খুঁজছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে ফিলিপস-ভ্যান হসন নামের একটি পোশাক প্রস্তুতকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। পৃথিবীজুড়ে ৮৫টি দেশে এই প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে। এখান থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় যে ট্রাম্প নিজেও সস্তা শ্রম ব্যবহার করেন। হিলারি আইএসের প্রতিষ্ঠাতা—ট্রাম্প : প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারির উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আইএসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে হিলারির পুরস্কার পাওয়া উচিত। আপনারা অরল্যান্ডোর দিকে তাকান, বারনারডিনোর দিকে দৃষ্টি দিন, বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের দিকেও তাকান। বিশ্বব্যাপী যা ঘটছে সেদিকে দৃষ্টি ফেরান। আইএসকে আমরা আজকের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারির কাছে হেরে যাওয়াটা হবে বিব্রতকর। ঠগবাজ হিলারির কাছে হেরে যাওয়া কেবল বিব্রতকরই হবে না, এটি হবে ভয়াবহ।’ রিপাবলিকানদের ভেতর অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়েও কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দল ঐক্যবদ্ধ আছে। আমি মনে করি এত ঐক্যবদ্ধ আগে আমরা ছিলাম না।’ ট্রাম্প এর আগে হিলারিকে ঠগ বলে সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁকে শয়তান বলে অভিহিত করেন। ফ্লোরিডায় ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ওই সময়ে ৯/১১-এর হামলার ঘটনা ঘটত না। সূত্র : ইউএসএ টুডে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্ট।


