English Version
আপডেট : ৩ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫৭

পাকিস্তানে আফ্রিদির কুশপুত্তলিকা দাহ; হাজারখানেক টেলিভিশন ভাংচুর

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে আফ্রিদির কুশপুত্তলিকা দাহ; হাজারখানেক টেলিভিশন ভাংচুর
প্রতীকী ছবি

 

স্বাধীনতার মাসে আবারও বাঘা বাঙ্গালীর কাছে পরাজিত হলো পাকিস্তানীরা। গা তো জ্বলবেই। বুধবারের অঘোষিত সেমিফাইনালে বাংলাদেশের কাছে পাঁচ উইকেটে পরাজিত হবার ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ওপর ভীষণ ক্ষেপেছেন দেশটির ক্রিকেটভক্তকুল এবং সাবেক ক্রিকেটাররা। এ পরাজয়ের জন্য আফ্রিদি বাহিনীর প্রস্তুতি এবং কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন তারা।

বাংলাদেশের  বিপক্ষে ম্যাচটি দেখার জন্য বুধবার পাকিস্তানের ক্রিকেটপাগল কোটি  ভক্ত বসেছিল টিভির সামনে। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটের লজ্জাজনক পরাজয় দেখে রাগে ক্ষোভে অনেকেই টেলিভিশন ভেঙ্গে ফেলছেন বলে খবর প্রকাশ করছে দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলো । জানা গেছে সারা পাকিস্তানে প্রায় হাজারের বেশী টেলিভিশন ভাঙ্গা হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন ‘ লজ্জাজনক হারের পেছনে আফ্রিদি বাহিনীর প্রস্তুতি এবং কৌশলের কঠোর সমালোচনায় মুখর দেশটির কোটি ক্রিকেট ভক্ত ।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশও পাকিস্তান ম্যাচ শুরু হওয়ার আগ থেকে পাকিস্তানের অন্যতম বড় শহর করাচির বেশ কয়েকটি স্পটে হাজার হাজার মানুষ বড় পর্দায় উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা দেখার জন্য হাজির হয়। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হারে আফ্রিদির দল। বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়ায় রাগ ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা।

পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে দেখা যায়, ‘ক্ষুব্ধ’ দর্শকরা এমন বাজে পারফরম্যান্সের কারেণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। অনেককে হতাশায় টিভির পর্দা ভেঙে ফেলতেও দেখা যায়। টিভি রিপোর্টে দেখা যায়, বেশ কয়েক জায়গায় ‘বিক্ষুব্ধ’ দর্শকরা হতাশায় ও রাগে-ক্ষোভে অধিনায়ক আফ্রিদি ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

টিভি চ্যানেলগুলোতে চলছে সমালোচনার ঝড় । পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ মিয়াদাদ পাকিস্তানের জনপ্রিয় একটি টিভি চ্যানেলে তার দেয়া সাক্ষাতকারে খেলা শেষে জানালেন, আমার মনে হয়,’তাদের খেলায় একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। আমি দেখেছি, পুরো দল আতঙ্কে ছিল। বাংলাদেশ দলের হারে খুবই হতাশ তিনি।

এর দুদিন আগেই আফ্রিদির কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই অধিনায়ক বলেছিলেন,  দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যই না আফ্রিদি। সেখানে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি!

এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতেছিলো  পাকিস্তান। কিন্তু চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের চেহারা বের হয়ে গিয়েছিল। সেই চেহারা ভয় ধরিয়ে দেয়। মাত্র ৮৩ রানেই অল আউট হয়েছিল পাকিস্তান। বেশ সহজেই হার মেনেছে ভারতের কাছে।

এসব দেখেশুনে মিয়াদাদ অধিনায়ক আফ্রিদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, এমন খেলোয়াড়কে কিভাবে দলে রাখেন যে কেমন করতে পারে তা কারোরই জানা নেই। কয়েক বছর আগেই দলে আফ্রিদির জায়গা পাওয়ার দিন ফুরিয়েছে। আফ্রিদি এবারের আসরে ভারতের বিপক্ষে ২ রান করেছেন। উইকেট পাননি। আমিরাতের বিপক্ষে ১ উইকেট পেয়েছেন। তার আগেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অনুজ্জ্বল তিনি। মিয়াদাদ তাই বলছেন, জেতার বা ভাল করার প্রত্যাশা কিভাবে করা যায় যখন কয়েক বছর আগেই পারফর্ম করার আস্থা হারানো এক খেলোয়াড় এখনো জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়?

ঐ আলোচনায় সেখানে বোর্ডকে এক হাত নেন তিনি।   যে খেলোয়াড় পারফর্ম করে না তাকে বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মিয়াদাদ, পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের ক্রিকেট জ্ঞানই নেই। তাদের খেলাটির প্রতি সেই আগ্রহও নেই।