ভারতের বাজারে সবচেয়ে কমদামী রিভলবার!
নিজের নিরাপত্তার জন্য এত দিন মেয়েরা সঙ্গে রাখত পিপার-স্প্রে। বিপদে পড়লে সেই অস্ত্রই ব্যবহার করত তারা। কিন্তু সাধারন মানুষের নিরাপত্তার জন্য ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি এত কম দামে রিভলভার বাজারে আনতে যাচ্ছে তাতে হয়ত পিপার-স্প্রের দিন ফুরোতে চলল। নতুন সেই রিভলভার দেখতে অনেকটা ফেলুদার কোল্ট রিভলবারটির মতো। তবে, গোয়েন্দা ফেলু মিত্তিরেরটা ছিল পয়েন্ট ৩২ বোরের, আর এটা পয়েন্ট ২২ বোর।
রিভলবারটির নাম রাখা হয়েছে ‘নিদার’। মূলত সাধারন মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এমনই রিভলভার বাজারে আসতে চলেছে। তবে যে দামে এটিকে বাজারে আনা হচ্ছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। আর গুলির দাম? সেটাও অবিশ্বাস্য। বাজার চলতি বুলেটের থেকে অনেক সস্তা। এই রিভলভারের এক একটা গুলির দাম মাত্র ২২ টাকা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এমনই এক রিভলবারের উদ্বোধন করলেন ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ। ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির ক্লাব হাউসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তবে সাধারন মানুষের জন্য এমন কম দামে আগ্নেয়াস্ত্র বাজারে আসায়, মুড়ি মুড়কির মতো তার ব্যবহার হবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
আয়তনে ১৪০ মিলিমিটার লম্বা ‘নিদার’ দেখতে খুবই ছোট। আর ওজনও মাত্র ২৫০ গ্রাম। এর নলের দৈর্ঘ মাত্র ৪০.৩ মিলিমিটার। অর্থাৎ প্যান্টের পকেটে অথবা হ্যান্ডব্যাগে সহজেই রাখা যাবে। তবে, সাধারণ রিভলভারের থেকে নিদারের বাড়তি সুবিধা অন্য জায়গায়। এতে আটটি বুলেটের চেম্বার রয়েছে।
এমনিতে মুঙ্গেরি দেশীয় রিভলভার এবং পিস্তলে ছেয়ে গিয়েছে এই রাজ্য। দুর্বৃত্তদের হাতে তো বটেই, সম্প্রতি বিমানবন্দরে শাসক দলের এক নেতার ব্যাগ থেকেও এমন এক দেশি বন্দুক পাওয়া গিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে এ রাজ্যে বেআইনি যে রিভলভার দেখতে পাওয়া তা হুবহু আসলের মতোই দেখতে। ব্যবহার করার পদ্ধতিও একই রকম। এ বার সাধারণ মানুষ যাতে পথেঘাটে বা বাড়িতে নিরাপত্তার অভাব বোধ না করেন, তার জন্যেই এত কম দামে এমন রিভলভার বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাইফেল ফ্যাক্টরি।
অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল তুষার ত্রিপাঠী বলেন, পেশার তাগিদে মেয়েদেরকে এখন অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ ধরনের রিভলভার মূলত তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, যাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হবে তার পায়ে বা শরীরের নীচের অংশে গুলি লাগলে সে সামান্য আহত হবে। তবে, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ ছেকে গুলি করলে আঘাত বেশি হবে। এ রাজ্যে ৩৫ হাজার টাকা দাম হলেও করের কারণে অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে দামের তারতম্য হতে পারে। তবে, সেটা ৩৫ থেকে ৪৭ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।


