আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলো ইরানের উপর থেকে
পরমাণু চুক্তির সব শর্ত পূরণ করায় ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বছরের ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তির আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো। শনিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদর দপ্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ঘোষণা দেন। মোগেরিনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণাটি ইংরেজিতে পাঠ করেন এবং জাওয়াদ জারিফ তা ফার্সিতে পড়ে শোনান।
মোগেরিনি বলেন, ‘ইরান তার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তাই আজ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।‘ এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা উন্নত করতে সহযোগিতা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইএইএ’র মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো বলেছেন, আজকে আমি এখানে এই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করছি যে, যৌথ সমন্বিত সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইরান প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই রিপোর্ট আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরস ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও দাখিল করা হয়েছে।
পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংকিং, স্টিল, শিপিংসহ ইরানের ওপর আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেয় আমেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে কঠিনতর সমস্যাও যে সমাধান করা যায় এই ঘটনা সেই শক্তিশালী বার্তাই দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইরান যেহেতু তার সব ধরনের শর্ত পূরণ করে অঙ্গীকার রক্ষা করেছে তাই ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া বহুপাক্ষিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিষয়ক নিষেধাজ্ঞাগুলোও তুলে নেয়া হয়েছে।”
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বিদেশে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়া হয়েছিল এখন থেকে তা ফেরত পেতে শুরু করবে তেহরান। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতেও পারবে।
গত বছরের ১৪ জুলাই জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ও জার্মানিকে নিয়ে গঠিত ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা সই করে ইরান। ওই সমঝোতা বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে আরাক ভারী পানির চুল্লি বন্ধ করে দেয়ার কথা ছিল। ওই সমঝোতায় ইরানকে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বজায় থাকে। তবে সমঝোতায় পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার বিনিময়ে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে রাজি হয়। ওই সীমাবদ্ধতার আওতায় আরাক পরমাণু স্থাপনার মূল চুল্লি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।


