পেশী টানের কিছু কারণ
ব্যায়ামের পরে পেশীতে টান অনুভব করা খুবই সাধারণ সমস্যা। যতক্ষণ না এই সমস্যাটি আমাদের ঘন ঘন বিরক্ত না করে ততক্ষণ আমরা একে অবহেলাই করি। পেশীর টানের এই কারণ সম্পর্কে জানলে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করাও সহজ হয়।
চলুন তাহলে জেনে নিই পেশীতে টান পড়ার কারণগুলো সম্পর্কে:
পানিশূন্যতা- পানিশূন্যতা শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। যদি আপনি খনিজ ও তরলের ঘাটতি পূরণ করতে অক্ষম হন তাহলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং পেশিতে টানের সৃষ্টি হবে। এটি সাধারণত হয়ে থাকে গরমের সময় এবং ভারী ব্যায়াম করার পরে বা ব্যায়ামের সময়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে ডিহাইড্রেশন হয়। পানিশূন্যতা এড়াতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
বসার ধরণ- কিছু কিছু ক্ষেত্রে বসার ধরণের কারণেও পেশীতে টান পড়তে পারে। ভুলভাবে বসার কারণে যদি শরীরের একটি অংশে বেশি চাপ পড়ে তাহলে পেশীতে টান অনুভব হতে পারে। শরীরের কোন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টিউপাদানের সাপ্লাই কম হলে এমন হয়। তাই সব সময় সঠিক ভঙ্গিমায় বসুন।
হায়পক্সিয়া- আপনার যদি ঘন ঘন পেশীতে টান পড়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় তাহলে তা হতে পারে রক্তপ্রবাহের বাঁধার কারনে বা হায়পক্সিয়ার জন্য। আক্রান্ত স্থানে চাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে গরম সেঁক দিতে চেষ্টা করুন।
ভিটামিনের অভাব- ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি হলে এনেমিয়া হয় এবং লাল রক্ত কণিকার ঘাটতি দেখা দেয়। লাল রক্ত কণিকাই শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর ঘাটতির কারণেই পেশীর সংকোচনের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যাটি থেকে মুক্ত থাকার জন্য ভিটামিন বি ১২ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম খান।
পটাসিয়ামের ঘাটতি- আপনি কি জানেন পটাসিয়ামের ঘাটতিও পেশীর সংকোচনের জন্য দায়ী হতে পারে? শরীরে পটাসিয়ামের ঘাটতি হলে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য পরিবর্তন আসে এবং পেশীর সংকোচনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কলা, শুকনো ফল ও শাকসবজি খান।
ঔষধের কারণে- যদি আপনার হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকে এবং আপনি প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিইউরেটিক ঔষধ সেবন করেন তাহলে আপনার পেশীর সংকোচন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কারণ এ ধরণের ঔষধ শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এর ফলে পেশীর সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণও পরিবর্তিত হয়। যদি আপনার ঘন ঘন পেশীতে টান পড়ার সমস্যাটি দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।


