English Version
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ১৬:০০

হতাশা মস্তিষ্ককে করে ধ্বংসে

অনলাইন ডেস্ক
হতাশা মস্তিষ্ককে করে ধ্বংসে

হতাশা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে আমাদের মনে। এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ বহুকাল আগে থেকেই এর উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

হতাশা যে আমাদের মতনকে প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত করে সেটা তো আমরা নিজেরা অনেকটাই বুঝতে পারি। তবে ব্যাপারটা যদি মন না হয়ে হয় শরীরের ক্ষেত্রে তাহলেও কি উত্তরটা একই রকম থাকবে?

অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেছেন বিজ্ঞানীরা হতাশার সাথে শরীর, বিশেষ করে আমাদের মস্তিষ্কের সমস্যাগুলোর একটা সম্পর্ক নির্ণয় করতে। অনেকটা সফলও হয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় আরো অনেক বেশি করে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন তারা হতাশার সাথে মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে।

জানতে পেরেছেন, কেবল ছোটখাটো সমস্যাই নয়, অপরিবর্তিত হতাশা মানুষের মস্তিষ্ককে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

নিজেদের এই গবেষণায় এনিগমা ৯ হাজার মানুষের ওপরে পরীক্ষা চালান গবেষকেরা। আর তাদের ওপরে করা ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজেসের মাধ্যমে বের করেন যে, হতাশা মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে একদম নীচের দিকে নামিয়ে আনে। ফলে, ক্ষতিগ্রস্থ হয় মস্তিষ্ক।

প্রশ্ন হল হিপোক্যাম্পাস জিনিসটা আসলে কি? হিপোক্যাম্পাস হচ্ছে মস্তিষ্কের ভেতরে অবস্থিত একটি ছোট্ট অংশ যেটার কিনা মোট দুইটি বিভাগ রয়েছে। একটি হচ্ছে এর বাইরের দিক যেটার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি তৈরি, সংগ্রহ ও অন্যান্য বেশকিছু কাজ করে থাকে মস্তিষ্ক। আর আরেকটি হচ্ছে এর ভেতরে থাকা অ্যামিগডালা।

এর আগেও গবেষকেরা গবেষণা করে অ্যামিগডালার সাথে হতাশার সম্পর্ক বের করেছেন। আর বর্তমান এই গবেষণার তথ্যানুসারে অ্যামিগডালাকে প্রভাবিত করার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে সংকুচিত করে ফেলে হতাশা।

মূলত, স্মৃতিশক্তি সংগ্রহ ও তৈরির পাশাপাশি আমাদের আবেগ আর অনুভূতিগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে হিপোক্যাম্পাস। বিখ্যাত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইয়ান হিকির ভাষ্যমতে- মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে কোনকিছু হঠাৎ করে ভুলে যাওয়া। এর অর্থ এটাও হতে পারে যে এতদিন ধরে নিজের সম্পর্কে থাকা ধারণা বদলে একেবারে অন্য এক রূপ নেওয়া। কেবল স্মৃতিই নয়, কর্মকান্ডের পরিবর্তনও হতে পারে এই উদাহরন।

হতাশ মানুষ অনেকদিন ধরে তার এই হতাশা চালু রাখলে একটা সময় নিজের সম্পর্কে বা চারপাশ সম্পর্কে আগে ভাবা সবকিছু নতুন করে ভাবতে শুরু করে। পুরনো সবকিছু ভুলে যায়। আর এই ব্যাপারটি অ্যামিগডালার মাধ্যমে প্রভাবিত করে হিপোক্যাম্পাস, অর্থ্যাত্ মস্তিষ্ককেও। ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এটি এবং নিয়ে নেয় একটি নতুন আদল।