English Version
আপডেট : ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:৪৭
সূত্র:

‘ক্যাসিনো আরমানের’ সঙ্গে নায়িকা শিরিন শিলার গভীর সম্পর্ক ছিল!

‘ক্যাসিনো আরমানের’ সঙ্গে নায়িকা শিরিন শিলার গভীর সম্পর্ক ছিল!

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান। তিনিও বহুল আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডের অন্যতম হোতা। সামান্য লাগেজ বিক্রেতা থেকে ক্যাসিনো ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই আরমান। শুধু ক্যাসিনো ব্যবসা নয় চলচ্চিত্রে প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন আরমান। ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’ নামের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন হাউসের প্রধান কর্ণধার তিনি। জানা গেছে ঢাকাই সিনেমার নায়িকা শিরিন শিলার ওপর নজরদারির মাধ্যমে আরমানের খোঁজ পেয়েছে র‌্যাব। গোপন সূত্রে জানা যায়, এই নায়িকার সঙ্গে আরমানের গভীর সম্পর্ক ছিল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শিরিন শিলার উত্থানের পেছনে ছিল আরমানের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও মদদ।

অভিনয় না জানা এইসব নায়িকা এ ধরনের প্রযোজকের ঘাড়ে চেপে সিনেমার বারোটা বাজানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল সেটি থেমে যাওয়ায় অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কেউ কেউ আবার হতাশ, কারণ ঢাকাই ছবির দুর্দিন আর প্রযোজকের খরায় বেশকিছু ছবির কাজ থমকে যাওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়বেন। সিনেমার সুন্দরীদের অন্ধকার গলি-ঘুপচি ঘুরে বেড়ানোর এই গোপন সত্য উন্মোচিত হলে সত্যি সত্যি বিপাকে পড়বেন শিরিন শিলা ও তার মতো আরও অনেক মডেল-নায়িকা।

রুপালি পর্দার ঝলমলে জীবনের আড়ালে অন্ধকার জগৎ তথা আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটা যোগসূত্র থাকে। হলিউড মাফিয়া থেকে বলিউড এমনকি ঢাকাই চলচ্চিত্রেও এমন গুঞ্জন শোনা যায় হরহামেশাই। সাম্প্রতিক যুবলীগ বিতর্কে এমন করেই ওঠে এসেছে যুবলীগ নেতা আরমানের নাম। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে বেনামে অর্থলগ্নি করার কথা চলচ্চিত্রের মানুষের কাছ থেকেই জানা যায়। চলতি বছর স্বনামেই প্রযোজনায় আসেন তিনি। খুলে বসেন প্রযোজনা সংস্থা ‘দেশবাংলা মাল্টিমিডিয়া’। এই সংস্থা থেকে প্রথমেই প্রযোজনা করেন নায়িকা বুবলী ও শাকিব খানকে নিয়ে চলচ্চিত্র ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। ছবিটি গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পায়। এরপর তিনি প্রযোজনা করেন ‘আগুন’ ছবিটি। এ ছবির নায়িকা হলেন মডেল জাহারা মিতু। আর নায়ক শাকিব খান। ছবিটি এখন নির্মাণাধীন রয়েছে।

আরমানের ঢাকাই ছবি বিতর্কে অনেকদিন ধরেই রুপালি পর্দার বেশকিছু নায়িকার নাম ওঠে এসেছে। নায়িকারা বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তবে এবার চূড়ান্ত বিতর্কে জড়ালেন চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। যুবলীগ বিতর্কে ওঠে এসেছে তার নাম।

জানা গেছে,প্রথমদিকে আরমান বেশকিছু সিনেমায় বেনামে অর্থলগ্নি করেন। সেই সিনেমাগুলোতে শিরিন শিলাকে নায়িকা হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রের বেশকিছু মানুষ বলছেন, যুবলীগ নেতা আরমানের চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টতা বেশ পুরনো। অনেক বছর যাবৎ বেনামে সিনেমায় অর্থ লগ্নি করে এসেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি প্রকাশ্যে সিনেমা নির্মাণে জড়িয়ে পড়েন তারা। দেশবাংলা মাল্টিমিডিয়া নামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজক হিসেবে শাকিব খান ও বুবলীকে নিয়ে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ শীর্ষক সিনেমাটি নির্মাণ করেন আরমান।

সিনেমাটি চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেও আরমান পূর্ণ উদ্যোমে আরো একাধিক ছবি নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও সম্রাটের উপস্থিতিতে শাকিব খান ও জাহরা মিতুকে নিয়ে আগুন ছবির মহরত করা হয়। ‘আগুন’ ছবির শুটিং শুরু হলেও সেটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশবাংলার কার্যক্রমও। দেশবাংলার আরও একাধিক ছবির পাইপলাইনে নায়িকাদের দৌড়ে শিরিন শিলাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আরমানের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেন শিরিন শিলা। তিনি বলেন, ‘আরমানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এ সবই মিথ্যা।’

তবে শিলা বলেন, আমি আরমান ভাইকে চিনি একজন প্রযোজক হিসেবে। এর বাহিরে ওনার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। ওনার একটি সিনেমায় আমাকে নেয়ার কথা ছিল কিন্তু আমি ওই মূহুর্তে দেশের বাহিরে থাকার কারণে অন্য এক নায়িকাকে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ গত মাসে (সেপ্টেম্বর) আমার সাথে আরমান ভাইয়ের কয়েকবার কথা হয়েছিল সিনেমার বিষয়ে। আমি তখন দেশের বাহিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমি দেশের বাহির থেকে এসে আমার বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে আর ওনার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি।

এদিকে ক্যাসিনো কাণ্ডে শোবিজ অঙ্গনের বেশ কজন মডেল-নায়িকার নাম উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিতও হয়েছে। তবে সেসব খবর কেবল গুঞ্জনই রয়ে গেছে। অন্তত ৫০ জন মডেল-নায়িকার তালিকায় নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। সবশেষে সম্রাট ও আরমানের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা ঢাকাই ছবির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

আরমানের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। বিএনপি সরকারের সময় হাওয়া ভবনেও তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঐ ভবনের জনৈক এক ব্যক্তির প্রভাবে তিনি রাতারাতি ফকিরাপুলের কয়েকটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করেন। ক্ষমতার পালাবদলে তিনি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সান্নিধ্য লাভ করেন। এ সময় তিনি সম্রাটের প্রভাবে মতিঝিল ক্লাবপাড়ার প্রায় ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করেন। সম্রাটের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রক বনে যান। পরে দুজনে মিলে এই ব্যবসার প্রসার ঘটান। তাই সম্রাট এই ব্যবসায় আরমানকে গুরু বলে মানতেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আলোচনায় ছিল যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম। প্রথম দুই-তিন দিন কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান নিলেও একপর্যায়ে সেখান থেকেও লাপাত্তা হয়ে যান সম্রাট।

অবশেষে রোববার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট-আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।