এবং তিশার ওয়েব সিরিজ...
সকাল না পেরোতেই শুটিং সেটে হাজির নুসরাত ইমরোজ তিশা। বুঝতেই পারছেন, তিশা একা নন, তার অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কুয়াশা’র বাকি সঙ্গী-সাথিরাও আছেন। যথারীতি দিনের প্রথম স্লটের শুটিং শুরু হয়, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিশা। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ‘শট ওকে’ বলামাত্রই কিঞ্চিৎ ফুরসত পেলেন তিশা। এ বিরতিতেই টকিজের মুখোমুখি হলেন এ অভিনেত্রী। ক্লান্তি ভুলে মন খুলে টকিজের নানা রকম প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি—
নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কুয়াশা’য় অভিনয় করছেন। এ সিরিজ আর আপনার চরিত্র নিয়ে বলুন—
মফস্বলের একটি মেয়েকে ঢাকা শহরের এক গডফাদারের কাছে বিক্রি করা হয়। তারপর ওখান থেকেই মেয়েটি নিজেকে রক্ষা করে এবং প্রতিশোধ নেয়। এমন ভাবনা ঘিরেই এ ওয়েব সিরিজের গল্প গড়ে উঠেছে। আর সেই মেয়ের চরিত্রে আমি অভিনয় করছি, এতে আমার চরিত্রের নাম রানু। দু-একদিনের মধ্যে পুরো ওয়েব সিরিজের শুটিং শেষ হবে বলে আশা করছি।
এদিকে আপনার অভিনীত ‘রূপকথা’ নামের আরেকটি ওয়েব সিরিজ তো শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে? এ কাজটি কেমন লাগছে নিজের কাছে?
হ্যাঁ, এটির শুটিং শেষ হয়েছে। ৬ তারিখ বায়স্কোপ অরিজিনালে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। আর কাজটি কেমন হয়েছে, তা সম্ভবত এর পোস্টার দেখেই কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, পোস্টার দেখে কিন্তু আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, তা-ও বোঝা যাচ্ছে; যেখানে আমার চরিত্রটি খুবই কনফিউজিং। মেয়েটি মেধাবী কিন্তু খুবই বোকাসোকা।
ওয়েব সিরিজে টানা অভিনয় শুরু করেছেন। তো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের ওয়েব সিরিজ দেখেন কেমন?
আমার ভীষণ ভালো লাগে বিভিন্ন দেশের ওয়েব সিরিজ দেখতে। সত্যি বলতে, এ কাজগুলো দেখার অভিজ্ঞতা খুব ভালো বলে আমরাও ওয়েব সিরিজ নির্মাণের বিষয়ে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।
টেলিভিশন মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের আধিক্য থাকায় এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দর্শকরা। নতুন মাধ্যমটিকে এ রকম বিষয়ের প্রভাবমুক্ত রাখা নিয়ে কী করা যেতে পারে?
আমি যেহেতু কোনো টেলিভিশন বা ওয়েব চ্যানেলের কর্তাব্যক্তি নই, সেহেতু এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিতে পারব না। এসবের সঙ্গে যুক্ত থাকলে হয়তো কিছু বলতে পারতাম। তবে শিল্পী হিসেবে একটি কথা বলতে চাই, টিভিতে আমরা ভালো ভালো প্লটে কাজ করেছি। আর আমি তো বেশির ভাগ কাজ করি ঈদে। অনেকের অভিযোগ, সে সময় যে নাটকগুলো প্রচার হয়, তাতে বিজ্ঞাপন বিরতি বেশি। এতে নাটক-সিরিয়ালের গল্পই ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয় নাকি দর্শকের! তার পরও টেলিভিশন চ্যানেল চেষ্টা করছে বিরতিহীন নাটক প্রচারের। ঈদে এখন এ রকম কিংবা স্বল্প বিরতির নাটক দেখানো হচ্ছে। এ উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। আশা করব ওয়েব সিরিজ যারা নির্মাণ করছেন, তারাও তাদের নিজেদের স্বার্থ দেখার পাশাপাশি দর্শকের ভালোর কথা চিন্তা করবেন।
এবার চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আসা যাক, তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে কাজ করলেন, এ নিয়ে শুনতে চাই—
আমি খুবই ভাগ্যবান যে, এ রকম ভালো একটি টিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তৌকীর আহমেদের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ ছিল ‘হালদা’। ছবিটি সবাই ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। প্রথম ছবিটি যেহেতু ভালো হয়েছে, সেহেতু আমি আশা করব এ ছবিও দর্শকের মন কাড়বে।
ছবিটির গল্প বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে। এ রকম গল্পে কাজ করার ক্ষেত্রে কোন কোন জায়গাগুলো আপনাকে প্রাণিত করেছে?
আমাদের দেশে ভাষা আন্দোলন নিয়ে চলচ্চিত্র কম হয়েছে। ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি ধরেই ছবিটি বানানো হয়েছে এবং গুণী শিল্পীরাও কাজ করেছেন এখানে। তাছাড়া ভালো একটি গল্পে ভালো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাও তো বড় একটা অর্জন। এ বিষয়টি আমাকে এতে কাজ করতে আগ্রহী করেছে। নির্মাতা পরিচয়ের বাইরে চিত্রনাট্যকার পরিচয়েও তৌকীর আহমেদ দক্ষ। তার নির্মিত ছবিতে কাজ করতে অবশ্যই ভালো লাগা কাজ করে। আমি ভীষণ আশাবাদী, তৌকীর আহমেদ বরাবরের মতো এবারো দারুণ একটি ছবি উপহার দিতে যাচ্ছেন।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনার বিপরীতে বেশির ভাগ সময়ই এখন তরুণরা কাজ করছেন। নতুনদের সহযোগিতা করার ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখেন?
আমি যখন কাজ শুরু করি তখন অনেক জ্যেষ্ঠ শিল্পী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন ও উৎসাহিত করেছেন। আমার গ্রুমিংটা ওভাবেই হয়েছে। যে কারণে আমি এখন যখন নতুনদের সঙ্গে কাজ করি তখন সেভাবেই তাদের পাশে থাকার, অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে আমিও কিন্তু নতুনদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি। কারণটা হলো: তরুণদের মধ্যেই নতুন নতুন সৃষ্টিশীল চিন্তার উন্মেষ ঘটে। এ কারণে তাদের সঙ্গে থাকা মানেই আমার চিন্তাভাবনায় নতুন কিছু যোগ হওয়া। নতুনদের দারুণসব আইডিয়া দ্বারা আমিও ভীষণ অনুপ্রাণিত হই। এসব কারণে মনে করি, আমাদের সবার উচিত নতুনদের উৎসাহিত করা।


