English Version
আপডেট : ৮ মে, ২০১৮ ১১:৩৭

হাতের মুঠোয় মিলছে স্বপ্নের তারকারা

অনলাইন ডেস্ক
হাতের মুঠোয় মিলছে স্বপ্নের তারকারা

চাইলেই যাকে হাতের কাছে পাওয়া যায় তার প্রতি আগ্রহ থাকে না। যা সহজে মেলে না তার জন্যই অপেক্ষা করে মানুষ, করে সাধনা। তেমনি সিনেমার তারকাদেরও সহজলভ্য হলে চলে না। টাকা দিয়ে টিকিট কিনে সিনেমার তারকাদের হলে গিয়ে দেখতে যান দর্শক।   সেই তারকাকে যদি যত্রতত্র পাওয়া যায়, তবে কেন পকেটের টাকা খরচ করে দেখতে যাবেন তারা। এটা সহজ হিসাব। ইন্ডাস্ট্রিতেও এ কথাটা চালু আছে বলেই সিনেমার তারকারা টিভিতে নিয়মিত হলে তার সমালোচনা চলে।

কিন্তু এ সময়টায় তারকাদের সহজলভ্য করে তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুকে সকাল-সন্ধ্যা দেখা যায় তারকাদের নানারকমের ছবি ও সেলফি। সেসব ছবিতে খুব সহজেই তারকাদের সান্নিধ্য পান সাধারণ মানুষ।

সুযোগ পান লাইক ও মন্তব্য করে তারকাদের সঙ্গে থাকারও। স্বাভাবিকভাবেই সেই তারকাদের প্রতি বাড়তি কোনো আকর্ষণ কাজ করে না। এতে করে কমছে তারকাদের ফেসভ্যালু, নীরব হুমকিতে পড়ছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বিস্তারিত লিখেছেন লিমন আহমেদ

গেল মার্চেরই ঘটনা। প্রায় সব সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল ‘শাবনূরকে দেখতে জনতার ঢল’। আশুলিয়া টঙ্গিবাড়ী এলাকায় অন্য এক নায়িকার ফ্যাশন হাউস উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন শাবনূর।

তিনি যাবেন সেই খবরটা স্থানীয় লোকজন আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন। রীতিমতো উৎসব শুরু হয়েছিল এলাকাটিতে। চিত্রনায়িকা শাবনূর আসছেন! তাকে চোখের সামনে থেকে দেখার সুযোগ মিলবে! এই বিস্ময় নিয়ে ওইদিন এক ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে শাবনূরকে। তার আসার খবর শুনে সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। শাবনূরকে এক পলক দেখার জন্য মানুষ পথে দাঁড়িয়ে থেকেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

একইভাবে গেল বছরের আরেকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা যায়। চিত্রনায়িকা মৌসুমী যাবেন কিশোরগঞ্জে। উদ্দেশ্য একটি বিপণন প্রতিষ্ঠানের শোরুম উদ্বোধন করা। সেই খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে জমা হতে থাকে মৌসুমীর ভক্তরা।

ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সেখানে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় কেবল প্রিয় নায়িকাকে একনজর দেখার বাসনায়। সেই অনুষ্ঠানটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত করতে পারেননি মৌসুমী। অন্য একটি কারণে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল এ নায়িকাকে। তার সাক্ষাৎ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন সেদিন হাজারও মানুষ।

আরেকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টানা যায়। ঢালিউডে বর্তমান সময়ের সেরা চিত্রনায়ক শাকিব খানকে দেখতে বরাবরই আগ্রহের সীমা নেই ভক্তদের। তবে ২০১০ সালে মানিকগঞ্জের একটি চরে ‘এই তো প্রেম’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

  সিনেমার শুটিং শেষ করে সন্ধ্যায় যখন পরিচালক সোহেল আরমান তার ছবির নায়ক শাকিব, নায়িকা বিন্দু, ভিলেন অমিত হাসানসহ অন্যদের নিয়ে ফিরছিলেন, তখন দেখা গেল দূরে নদীর পাড়ে হাজার হাজার বাতি জ্বলছে এমন আলো। কাছাকাছি পৌঁছলে বোঝা গেল আলো জ্বলছিল শাকিব খানকে দেখতে আসা হাজারও উৎসাহী মানুষের হাতের টর্চ লাইট, হারিকেনে। আলো নেড়ে নেড়ে সবাই চিৎকার করছিলেন শাকিব, শাকিব বলে। অভাবনীয় এক দৃশ্য বটে। পরিচালক ভড়কে গেলেন। বাধ্য হয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিয়ে মানুষের ঢল থেকে নায়কসহ সবাইকে নিয়ে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছিলেন তিনি।

তিন তারকার এই তিনটি ঘটনা প্রমাণ দেয় সিনেমার তারকাদের জন্য সাধারণ মানুষ বা দর্শকের পাগলামিটা কোন পর্যায়ের। কেন এই আগ্রহ বা আকর্ষণ? শুধু শাবনূর-মৌসুমীর, শাকিব খানরা সহজলভ্য নন বলেই।

শাবনূর সিনেমায় নিয়মিত নন অনেকদিন ধরেই। তবু তারকাখ্যাতিতে ভাটা পড়েনি। এখনও দর্শক-ভক্তদের আগ্রহে তিনি। কারণ শাবনূরের দেখা যত্রতত্র মেলে না। ইচ্ছা করলেই শুনতে পাওয়া যায় না তার কথা।

একইভাবে মৌসুমী যত্রতত্র নন। টিভিতে মাঝেমধ্যে তাকে দেখা গেলেও সেটি নিয়মিত নয়। রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খানদের বেলাতেও একই ঘটনা। সিনেমায় আগের মতো নিয়মিত না হলেও সাধারণ মানুষের আগ্রহে রয়েছেন তারা।

গেল কয়েক বছরে এসব তারকাদের তেমন কোনো সিনেমা নেই। যে কয়টি মুক্তি পেয়েছে মানে ও গুণে সেগুলো সমালোচনাতেই থাকবে। তবুও দর্শক সেসব ছবির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন কেবল শাবনূর, মৌসুমী, রিয়াজ, ফেরদৌসরা ছিলেন বলে।

অন্যদিকে শাকিব খান তো হালের সেরা তারকা। তার বেলাতে মানুষের আগ্রহের গল্পটা আরও ভিন্ন। তারা সিনেমা হলে এলে উৎসব আমেজ নামে। তার একটি অনুষ্ঠান টিভিতে প্রচার হলে সেটি টিআরপি রেটিংয়ের শীর্ষ তালিকায় থাকে। যেখানেই তিনি যান সেখানেই জমে যায় মানুষের মেলা। কারণ সহজলভ্য নন তিনি।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, গেল কয়েক বছরে ঢাকাই ছবির নতুন প্রজন্মের তারকারা সেই ক্রেজ, সাধারণ মানুষের ভিড়, দর্শকদের আগ্রহে থাকায় অনেকটাই পিছিয়ে। কারণ সহজলভ্যতা।

আজকাল যেখানে সেখানেই দেখা মিলছে তারকাদের। কফিশপে, রেস্তোরাঁয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনীতে। আর বিশেষভাবে তারকাদের কাছে পাওয়া খুব সহজ করে দিয়েছে ফেসবুক।

সামাজিক যোগাযোগের অনেক মাধ্যম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুকেই আসক্ত। সাধারণদের মতো সিনেমার অনেক তারকারও রয়েছে আসক্তি। ফেসবুক সময়ের দাবি। তার সুবিধা একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে নেয়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে নামিদামি সব তারকাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। কিন্তু আমাদের দেশের তারকাদের মতো ফেসবুকটাকে নেশা বানিয়ে ফেলেননি।

নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা রয়েছেন যারা অনেক জনপ্রিয়, ফেসবুকে লাখ লাখ ভক্ত। কিন্তু তাদের সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শক হলে যায় না। সেই তালিকায় সবার আগেই চলে আসবে পরীমনি ও নুসরাত ফারিয়ার নাম।

  পরীমনির ফেসবুক অনুসারী ৮৮ লাখ ছাড়িয়ে! নুসরাত ফারিয়ার অনুসারী ৭২ লাখেরও বেশি। দেশের ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে বিস্ময়কর এই অনুসারীর সংখ্যা। কিন্তু এই দুই তারকাই সিনেমা মুক্তি পেলে হলে দর্শক থাকে না। পাশাপাশি এই তালিকায় উচ্চারিত হবে জায়েদ খান, সাইমন সাদিক, বাপ্পী চৌধুরী, নিরব, ইমন ও আরিফিন শুভ আরও অনেকের নাম। ফেসবুকে ভক্তের অভাব নেই এ নায়ক-নায়িকাদের।

কিন্তু সিনেমা হলে তার সিকি ভাগও হাজিরা দেন না। কেন? চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করেন ফেসবুকে প্রতিদিনই নিজেদের আপডেট দিয়ে রাখেন এসব তারকারা। প্রকাশ করেন নতুন নতুন ছবি। শেয়ার করেন ব্যক্তিগত অনেক ঘটনা ও ভাবনা।

অনেক সময় দেখা যায় অনেক বিতর্কিত বিষয় নিয়েও পোস্ট দেন, বিভিন্নজনের পোস্টে নানারকম মন্তব্য করেন তারকারা। কখনও কখনও নিজেরাই জড়িয়ে যান বিতর্কে, কথা কাটাকাটিতে। প্রকাশ্যে এভাবে তারকাদের হাতের কাছে পেয়ে যান বলেই তাদের প্রতি ‘অসাধারণ’ ভাবনাটা কাজ করে না। কমে দর্শকের আগ্রহ।

হলে গিয়ে তাদের ছবি দেখতে তাগিদ বোধ করেন না। বোদ্ধাদের মতে, ফ্রিতে যাকে মেলে তার জন্য কেন অযথা পয়সা খরচ করা! যেখানে এসব তারকাদের সিনেমাগুলোও হচ্ছে গড়পড়তা, বিশেষ কিছু থাকছে না।

আবার ফেসবুক ব্যবহার করেও নিজেদের ইমেজ ধরে রাখতে পারা তারকাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, মাহিয়া মাহিদের নাম উল্লেখযোগ্য। তিন তারকাই সিনেমার পর্দার মতোই ফেসবুকেও তুমুল জনপ্রিয়।

শুরুর দিকে না হলেও বর্তমানে মাহিয়া মাহি ও অপু বিশ্বাসকে হর-হামেশাই ফেসবুকে উপস্থিত হতে দেখা যায়। এতে করে তারা নিজেদের অবস্থান কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন সেটা সহজেই অনুমেয়। বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার করেন রিয়াজ, বাপ্পারাজ, পপি, মৌসুমীসহ নানা প্রজন্মের আরও অনেক তারকাই।

তবে তারা এ মাধ্যমটি ব্যবহারে যথেষ্ট কৌশলী এবং নিয়ন্ত্রিত। বলা চলে তারা ফেসবুকটাকে নিজেদের আগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। যত্রতত্র ছবি, ব্যক্তিগত বিষয়াদি বিশ্লেষণপূর্বক শেয়ার, প্রতি মুহূর্তের আপডেট দেন না তারা। ফেসবুক লাইভেও খুব একটা দেখা যায় না তাদের। তাই দর্শকও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখায়, নির্মাতারাও তাদের প্রতি আস্থা রাখার সাহস পান।

ফেসবুকে সহজলভ্যতা বা হাতের কাছে তারকাদের পেয়ে যাওয়াতেই কী সিনেমায় দর্শক নেই? এ প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি হয়তো ‘হ্যাঁ’ বলে দেয়া যায় না। তবে সিনেমার দর্শক কমে যাওয়ার বা শাকিব-অপু পরবর্তী নতুন তারকাদের উত্থানের পেছনে অনেক প্রতিবন্ধকতার বিশেষ একটি বটে ফেসবুকের এ অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

তাই ফেসবুক নিয়ে ভাবতে হবে সবাইকে। আর যারা রোশান, সিয়াম, পূজা চেরি, জলিদের মতো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের এ বিষয়টিতে আরও সতর্ক হতে হবে। ফেসবুক হোক তারকাদের কাছে দর্শকের আগ্রহ ও চাহিদার গবেষণা কেন্দ্র, তাদের সাধারণ করে দেয়ার মাধ্যম না হোক।

  সংস্কৃতি বোদ্ধারা বলছেন, চলচ্চিত্রের বাইরে নাটক-সঙ্গীতের তারকাদেরও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কৌশলী হতে হবে। যদি তারা নিজেদের দর্শক-শ্রোতাদের আগ্রহে রাখতে চান।

এটা শোবিজের সর্বত্র আলোচিত বিষয়, যখন থেকে ফেসবুকেই তারকাদের দেখা মিলছে তখন থেকেই সাধারণ মানুষ তাদের সাধারণ করেই ভাবতে শিখেছে। দেখাচ্ছে না বাড়তি কোনো আগ্রহ। তারকাদের এ প্রথা ভাঙতে হবে।

যারা প্রযুক্তিগতভাবে নিজেদের আপডেট রাখাটাকে নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সেসব তারকারা ফেসবুকের পরিবর্তে কম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। যেমন ইন্সটাগ্রাম, টুইটার। এখনও এ মাধ্যমগুলো এ দেশে আপামর সাধারণ মানুষের কাছে অত পরিচিতি পায়নি। এগুলো ব্যবহারে একদিক থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রযুক্তিগতভাবে আপডেটও থাকা যাবে আবার নিজেদের সাধারণের কাছ থেকে আড়ালও করা যাবে।

আসলে দর্শক আর তারকা কিন্তু একে অপরের পরিপূরক। তারা কাজ দেখেন বলেই আমরা তারকা হতে পারি। একটা সময় তাদের সঙ্গে প্রিয় তারকাদের যোগাযোগ করা কঠিন হতো। এখন সেটা সহজ। তাই যোগাযোগটা বেশি হচ্ছে।

সেটা বেশি হচ্ছে ফেসবুকের কারণে। এ যেমন আমার মন খারাপ হলে বা ভালো লাগার মুহূর্তগুলো ফেসবুকে পোস্ট করি। এতে অনেক ভক্তরা কমেন্ট করেন। ভক্তরাও আমাদের সঙ্গে কানেকটিভ থাকেন। এটা কিন্তু খারাপ কিছু নয়।

আমার দৃষ্টিতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি বা কমারও কিছু নেই এতে। তবে ‘অতি’ জিনিসটা সব জায়গাতেই খারাপ। এখানেও। ততটুকু দর্শক বা ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত যতটা না হলেই নয়। নিয়মিত লাইভ করা, যখন যা খুশি পোস্ট করা এগুলো আমার ভালো লাগে না। ফেসবুকে আমি পরিমিত। খুব বেশিও না আবার খুব কমও না।

মাহিয়া মাহি, চিত্রনায়িকা

ফেসবুকে থাকা মানেই কিন্তু আর্টিস্টকে অ্যাভেইলেবল পাওয়া নয়। প্রতিদিন ফেসবুকের নিউজ ফিডে প্রিয় তারকার খবর প্রকাশিত হওয়াও কিন্তু তাকে দর্শকদের কাছাকাছি রাখছে। এটার যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি খারাপ প্রভাবও রয়েছে। আমি বলি প্রযুক্তির কোনো জিনিসই খারাপ নয়। আমরা শুধু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই হল। তবে তারকাদের এতটা ধরাছোঁয়ার পক্ষে নই আমি। তারা দর্শকদের স্বপ্নের জগতের মানুষ। তাদের সেভাবেই থাকা উচিত।

বাপ্পি চৌধুরী, চিত্রনায়ক

ফেসবুক দরকারি একটি প্লাটফর্ম। এখন মোবাইলে কথা বলার চেয়ে ফেসবুকেই বেশি যোগাযোগ হয়। শোবিজের প্রায় সবাই এ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হয়। অনেকটা গণমাধ্যমের ভূমিকাও পালন করে ফেসবুক। দর্শকদের আমাদের কাজ বা আমাদের কথাগুলো ফেসবুকের মাধ্যমেও জানানো যায়। তবে এটার মিস ব্যবহার করাটা খারাপ। ফেসবুকে থাকা মানেই কিন্তু তারকাদের হাতের নাগালে পাওয়া নয়। এটা যোগাযোগ রক্ষার জন্যই ব্যবহার করি।

পরীমনি. চিত্রনায়িকা

দর্শকরা এখন ফেসবুককেন্দ্রিক। ফেসবুকেই তারকাদের কাজের গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এমনকি তাদের নিয়ে প্রকাশিত নিউজগুলোও তারা ফেসবুক থেকেই পড়েন এবং শেয়ার করেন। একই প্লাটফর্মে থাকার কারণে তারকাদের সঙ্গে দর্শক ভক্তদের দেখা সাক্ষাৎও প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে। তবে এটা ভার্সুয়াল। বিষয়টি উপভোগ করি আমি। তবে অতিরঞ্জিত কিছুই এখানে যেন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখি। আর ফেসবুক জনপ্রিয়তা বাড়ার মাধ্যম নয়। জনপ্রিয়তা তো কাজ দিয়েই বাড়াতে হবে

সাদিকা পারভিন পপি, চিত্রনায়িকা

এখন কিন্তু আগের সিস্টেম নেই। অনেক সিস্টেমের পরিবর্তন এসেছে। দর্শকদের রুচি, ভালোবাসা ও তারকাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশের বহিঃপ্রকাশও বদলেছে। এখন যেমন দেখা হলেই সেলফি তোলা, আগে কিন্তু এটা ছিল না। আগে ছিল অটোগ্রাফ। ভক্তরা সব সময় চায় তার পছন্দের তারকার সঙ্গে তার যোগাযোগ হোক। তাকে নিয়ে কোনো স্মৃতি তার কাছে জমা থাকুক। তবে তারকাদেরও দর্শকদের কাছে বেশি অ্যাভেইলেবেল হওয়া উচিত নয়। অনেকে ফেসবুককে এখন গণমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। সব কাজের খবর এখানেই দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করেন। এতে জনপ্রিয়তা বাড়ার কিছু নেই। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত বলেই মনে করি।

সাইমন, চিত্রনায়ক

আমি কখনওই ফেসবুকে বেশি থাকি না। তবে আমার আলাদা পেজ রয়েছে। যদি কোনো আপডেট দেয়ার প্রয়োজন মনে করি সেখানে দিই। ভক্তরা আমার নামে অনেক ফ্যানপেজ তৈরি করেছেন। এটা তাদের ভালোবাসা। এটাকে আমি সম্মান করি। আর ফেসবুকে থাকলে যে তারকাখ্যাতি বাড়ে তা কিন্তু নয়। তবে ভক্তরা চায় তাদের প্রিয় তারকাকে যেন তারা ফেসবুকে পান। এতে করে আমাদের কাজের সঙ্গে দর্শকরা কানেক্টেড থাকেন। তবে ফেসবুকে আমার কর্মকাণ্ড বেশি নয়। শুটিংয়ের মুহূর্তগুলোয়ও আমি ফেসবুকে আপলোড করি না। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই করি। আমি আসলে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই।

শবনম বুবলী, চিত্রনায়িকা