English Version
আপডেট : ৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:৫১

‘দেবী’ নিয়ে বিপাকে জয়া, আপত্তি হুমায়ূনকন্যার

অনলাইন ডেস্ক
‘দেবী’ নিয়ে বিপাকে জয়া, আপত্তি হুমায়ূনকন্যার

কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের লেখা ‘দেবী’ উপন্যাসকে ভিত্তি করে তৈরি হতে চলা ছবি নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন জয়া আহসান৷ ছবিটি ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গেই মুক্তি পাওয়ার কথা৷ 

এরই মাঝে হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলার দাবি, “কেউ তাঁকে অনুমতি দেননি এই ছবি বানানোর৷ সিনেমাটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷”

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় রহস্যময় চরিত্রের নাম মিসির আলী৷ মনস্তাত্ত্বিক, বিজ্ঞান নির্ভর এবং যুক্তিনির্ভর কাহিনী নিয়ে মিসির আলী স্বমহিমায় বিরাজ করেন৷ এই সিরিজের অন্যতম উপন্যাসটি হল ‘দেবী’৷ 

আর এই উপন্যাসকে ভিত্তি করেই অভিনেত্রী জয়া আহসান তাঁর প্রথম প্রযোজনা শুরু করতে চলেছেন৷ মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। পরিচালক হচ্ছেন অনম বিশ্বাস৷

এদিকে শীলা আহমেদ জানিয়েছেন, “খবরের কাগজে দেখলাম ‘দেবী’ ইন্ডিয়া তে আগে মুক্তি পাচ্ছে! ইন্ডিয়া অথবা বাংলাদেশ, আগে অথবা পরে কোন কিছুতেই আমার অবশ্য কিছু যায় আসে না। 

আমার জানতে ইচ্ছা করছে, কে দেবী বানানোর অনুমতি দিয়েছে? আমাদের চার ভাইবোনের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এই সিনেমা সরকারি অনুদান পেল? কীভাবে এটা বানানো হয়ে গেল? কীভাবে এটা মুক্তি পাচ্ছে?”

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মহলে জয়া আহসান সুপরিচিত৷ তিনি ‘দেবী’ ছবি করতে চলেছেন সে বিষয়ে টলিউড ও ঢালিউডে জোর চর্চা চলছে৷ জানা গিয়েছে, ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে৷ 

এই ছবি দিয়েই অভিনেত্রী জয়া প্রযোজকের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন৷ সিনেমার জন্য বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি অনুদানও পেয়েছেন তিনি। 

এমন অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদর কন্যা শীলা আহমেদ সরাসরি ছবি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিতর্ক বাড়তে শুরু করল৷ ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে শীলা লিখেছেন, কীভাবে এই সিনেমা সরকারি অনুদান পেল?

শীলা আহমেদের যুক্তি, আমাদের একশ শতাংশ আইনগত অধিকার আছে বাবার কোন লেখা সিনেমা- নাটক- অনুবাদ হবে কিনা এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার। এবং ‘সমাজের বিশিষ্ট মানুষরা’- আপনারা যদি হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা নিয়ে নাটক সিনেমা বানান, আপনাদেরও একশ শতাংশ দায়িত্ব আছে হুমায়ূন আহমেদের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরাধিকার এর অনুমতি নেয়া।

ছবিটির পরিচালক অনম বিশ্বাস স্বীকার করেছেন, ছবিটি নির্মাণের আগে হুমায়ূন আহমেদের পুত্র-কন্যাদের কারো কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।

তবে লেখকের দ্বিতীয় স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে গ্লিটজকে জানান তিনি।

অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শাওনও। খানিকটা ধোঁয়াশা রেখে এ অভিনেত্রী বলেন, “অনুমতি নেওয়াটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজ।...আমি কী কোথাও লিখেছি, আমার পারমিশন নেয়নি।

আমি যতদূর জানি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সবার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা। আমি এটুকু জানি। আপনাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছেন বললেন মাত্র, আমার কাছ থেকে পারমিশন নিয়েছে, তাহলে নিয়েছে।”

প্রশ্ন উঠেছে লেখকের সব উত্তরাধিকারদের অনুমতি ছাড়া ছবিটি সরকারি অনুদান পেল কীভাবে?

চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির অন্যতম সদস্য মামুনুর রশিদ বলেন, “আপত্তিপত্রগুলো আসলে মন্ত্রণালয় দেখে। আমরা অনুদান কমিটির সদস্যরা চিত্রনাট্যটা দেখি। বিষয়টি নিয়ে আসলে তেমন কিছু বলতে পারছি না।”

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।