সত্যিই কি ভাঙতে চলেছে অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর দ্বিতীয় সংসার?
একবছর আগে বাগদান ও ঘরোয়া বিয়ের আয়োজন। গত জুলাইয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রি হলেও এই বছর তাদের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, তাদের এই নতুন সংসারে ধরেছে ভাঙনের চিড়। কথা হচ্ছে, টলিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ও তার স্বামী কৃষাণ ভ্রাজ দম্পতির। মুম্বাইয়ের সুপারমডেল কৃষাণকেই গতবছর ভালোবেসে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। শ্রাবন্তী-কৃষাণের পরিচয় হয় দেড় বছর আগে একটি বিজ্ঞাপনের কাজের সময়। এরপরেই ভালোলাগা থেকে প্রণয় এবং পরিণয়ের সিদ্ধান্ত। শ্রাবন্তীর জীবনে অবশ্য কৃষাণ প্রথম নন। এর আগে শ্রাবন্তী বিয়ে হয়েছিল চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব চক্রবর্তীর সঙ্গে। সেসময় শ্রাবন্তী-রাজীবের ঘরে জন্ম নেয় ঝিনুক নামের এক পুত্র সন্তান। কিন্তু তাদের সে সংসার টেকেনি। এদিকে গত এক মাস ধরে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে প্রশ্ন, অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে তার স্বামী কৃষাণের সম্পর্ক ভাঙনের পথে। শুধু ভাঙন না। শ্রাবন্তী নাকি ডিভোর্স ফাইল করেছেন এমন খবরও টালিগঞ্জের বাতাসে উড়ছে। এটা কি রটাচ্ছে নিন্দুকেরা? না, এর মধ্যে কিছু সত্যতাও রয়েছে। খবর পাওয়া যায় প্রায় দেড় মাস আগে। সূত্রপাত ফেসবুক। প্রায় দু’মাস আগে থেকেই কৃষাণ, শ্রাবন্তী বা শ্রাবন্তীর ছেলে ঝিনুকের সঙ্গে ছবি আপলোড না করে নিজের পরিবারের সঙ্গে ছবি আপলোড করা শুরু করেন। প্রথম দিকে কেউ পাত্তা দেননি। কিন্তু যখন ব্যাপারটা প্রায় রোজকার ঘটনাতে গিয়ে পরিণত হয়, তখন প্রথম ভ্রু কুঁচকোনো শুরু হয় ইন্ডাস্ট্রিতে। তবে এর মধ্যে অবশ্যই আরও একটা তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। বারবার চেষ্টা করেছেন সুপার মডেল স্বামীকে কীভাবে লঞ্চ করানো যায় বাংলা সিনেমায়। বিয়ের পরেই শ্রাবন্তী নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রযোজক অশোক এবং হিমাংশু ধানুকার সঙ্গে একটা মিটিং করে একটা ছবিও ঘোষণা করেন যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয় করার কথা দেন এই দম্পতি। তারপর শোনা যায়, যে ছবিটা তারা একসঙ্গে করবেন বলে ঠিক করেছেন সেই ছবির অর্ধেক ফান্ডিং জোগাড় করার কথা ছিল কৃষাণের। তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সেই টাকা জোগাড় করতে অক্ষম হন কৃষাণ। তখন শ্রাবন্তী নিজে চেষ্টা করেন। তারপর তাদের দু’জনের মধ্যে কী হয়েছে সেটা জানা যায়নি। এর কিছুদিন পর থেকে তারা আলাদা আলাদা থাকতে শুরু করেন। শ্রাবন্তী থাকছেন তার বাবা মা ও ছেলের সঙ্গে। কৃষাণ নিজের পরিবারের সঙ্গে। তাদের দু’জনের মধ্যে সব কিছু যে ঠিকঠাক নেই তা আরও পরিষ্কার হয়ে যায় শ্রাবন্তীর জন্মদিনের দিন ১৩ আগস্ট। যারা জানতেন ঝামেলা চলছে তারা ভেবেছিলেন স্বামী-স্ত্রীতে এগুলো হয় আবার কেটে যায়। অথচ তার জন্মদিনেও কৃষাণকে না দেখে সবাই যথেষ্ট অবাক হন। শ্রাবন্তীও নাকি কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের কাছে দুঃখ করেছেন, বারবার সম্পর্ক সংক্রান্ত তার এই দুর্ভোগে পড়া নিয়ে। এদিকে কৃষাণের কাছে ডিভোর্সের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেন তিনি। তার কথায়, কিছু সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু তা তারা কথা বলে ঠিক করে নিয়েছেন। শ্রাবন্তীর সঙ্গে ছবি পোস্ট না করার ব্যাপারে জানান, এই নিয়ে যদি ডিভোর্সের রটনা রটে, সেটি তাদের সমস্যা নয়। তারা ডিভোর্স করছেন না। অন্য দিকে শ্রাবন্তীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি যথেষ্ট বিরক্তির সঙ্গে জানান, এই প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতেই চান না। তবে পুরো ব্যাপারটাই যে এখনও যথেষ্ট স্পর্শকাতর অবস্থায় সেটার আভাস শ্রাবন্তী এবং কৃষাণ, দু’জনের বক্তব্যতেই পরিস্কার।


