যে একটি কারণে 'রুস্তম' দেখা দরকার
রুস্তম ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন অফিসার। একদিন পরিচয় হয় ব্যবসায়ীর বখে যাওয়া সন্তান যে কিনা নিজেও ব্যবসায়ী, বিক্রমের সাথে। বিক্রম নামের এই ব্যবসায়ীর সাথে রুস্তমের সখ্য হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত আড্ডা চলতো পারিবারিক ভাবেই। রুস্তম নিজের স্ত্রী সিনথিয়াকে সাথে নিয়েই যেতেন। বিক্রমের বোনের সাথে রুস্তমের স্ত্রীর সখ্য তৈরি হয়ে যায়। বিক্রমকে নৌবাহিনী থেকে পাঠানো হয় লন্ডনে ছয় মাসের জন্য। '
রুস্তম স্ত্রীকে রেখে চলে যান লন্ডনে। খুব সহজ করে বললে বলা যায়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে রুস্তমের স্ত্রী বিক্রমের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিক্রমের সাথে রাত কাটানো শুরু করেন। রুস্তম দেশে ফিরে নিজের স্ত্রীর এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্রমকে বাসায় গিয়ে পরপর ৩টা গুলি করে হত্যা করেন। আপাত দৃষ্টিতে এই হলো ঘটনা। আদালতে বিক্রমের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন রুস্তমের স্ত্রী। কিন্তু তারপরেও রুস্তম নিজের স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেন। কেন?
এটার জন্য রুস্তম ছবিটিকে অন্যভাবে বলতে হবে। বলতে হবে রুস্তমের দৃষ্টিকোণ থেকে। কেন রুস্তম তাঁর স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিলেন? ছবির একটিই কাহিনী আর তা হলো রুস্তমের স্ত্রীর পরকীয়া। নৌবাহিনীর একটি জাহাজ রুস্তমকে দেখতে পাঠানো হয়েছিল। জাহাজ বিষয়ক একটি 'ডিল'-এ রুস্তমকে ১০ লাখ টাকা অফার করেন বিক্রম। এটা বিক্রমের ব্যবসার একটা অংশ। সেটা নিয়েই ঝামেলা বেঁধে যায় সৎ নৌ অফিসার রুস্তমের সাথে বিক্রমের। এর প্রতিশোধ হিসেবেই নৌ বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে রুস্তমকে ৬ মাসের জন্য লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়।
রুস্তমের সাথে বিক্রমের ঝামেলার বিষয়টা জানতেন না রুস্তমের স্ত্রী,। রুস্তমের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীর দিকে এগিয়ে আসেন বিক্রম। ক্রমাগত কৌশলে নিজের বোনকে দিয়ে রুস্তমের স্ত্রীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বিক্রম। ধীরে ধীরে তাপ দিলে হয়তো শক্ত ধাতুও গলে যায়। ঠিক গ্রমাগত ভাল মানুষি সেজে রুস্তমের স্ত্রীকে মোহে আবদ্ধ করে ফেলেন বিক্রম। রুস্তমের স্ত্রী সিনথিয়াকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে রুস্তমের অপমানের চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টা দেখাতে ভাল ভাবেই সমর্থ হন বিক্রম। রুস্তমকে বুঝিয়ে দেন টাকা হলেই সব সম্ভব।
আদালতে রুস্তম বিক্রমকে গুলি করে হত্যা করেছেন এমন প্রমাণিত হয়। তারপরেও রুস্তম বেকসুর খালাস পান। কিভাবে? রুস্তম কাঁচা কাজ করেন না। নৌবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী আত্মরক্ষার্থে ৩টা গুলি ছোঁড়ার কথা উল্লেখ আছে। বিক্রমকে এই পরিবেশ তৈরি করে আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছেন এটা আদালতে উপস্থাপন করতে সমর্থ হন রুস্তম কিংবা অক্ষয় কুমার। কেন রুস্তম দেখবেন? কিভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী একজনকে নজের অজান্তে অনৈতিক পথে নিয়ে যাওয়া যায় তা রুস্তম চলচ্চিত্রে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


