ময়মনসিংহে উদীচীর বিভাগীয় লোকসংস্কৃতি উৎসব শুরু
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ময়মনসিংহ জেলা সংসদের আয়োজনে বিভাগীয় লোকসংস্কৃতি উৎসব-২০১৬(ঢাকা-ময়মনসিংহ) শুরু হতে যাচ্ছে আজ। দুইদিনব্যাপী এই উৎসবে অংশ নেবেন ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা।
বাঙ্গালীর মুলধারার সংস্কৃতি নিয়ে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার চর আনন্দীপুর গ্রামে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী। মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবি-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার। এছাড়াও আলোচনা করবেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার এবং বিভাগীয় লোকসংস্কৃতি উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রিপন।
লোকসংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন সম্পর্কে উদীচী ময়মনসিংহের সহ-সভাপতি সারওয়ার কামাল রবীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমাদের দেশে বর্তমানে মৌলবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের যে আগ্রাসন চলছে তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের লোকসংস্কৃতিকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিভৃত পল্লীর মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই। এটাই আমাদের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”
২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার শুরু হওয়া লোকসংস্কৃতি উৎসবে দুই দিনে বিভিন্ন জেলা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করবে। এর মধ্যে প্রথম দিন গীতি নৃত্যনাট্য “চন্দ্রাবতী” পরিবেশন করবে উদীচী কিশোরগঞ্জ। ঢাকার বঙ্গলোক পরিবেশন করবে “রুপচান সুন্দরীর পালা”। বাউল গান পরিবেশন করবেন নেত্রকোণার গৌরাঙ্গ আদিত্য, সিলেটের আংশুমান দত্ত, ময়মনসিংহের ফেরদৌস এবং চট্টগ্রামের ফকির শাহাবুদ্দিন।
দ্বিতীয় দিনে (২৭ ফেব্রুয়ারি) গীতি নাট্যালেখ্য “শাদী মোবারক” পরিবেশন করবে আলোকময় নাহা সঙ্গীত বিদ্যায়তনের শিল্পীরা। গীতি নৃত্যনাট্য “সোনাই মাধব” এবং “মহুয়া” পরিবেশন করবে যথাক্রমে নেত্রকোণা উদীচী এবং ময়মনসিংহ উদীচী। বাউল গান পরিবেশন করবেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার, বাউল শফি মন্ডল, মিজানুর রহমান মিলন ও জেসমিন আক্তার।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের প্রারম্ভে পরিবেশিত হবে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য লাঠিখেলা। বাংলাদেশে বর্তমানে মৌলবাদের উত্থান রুখতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের উপর জোর দেন সারওয়ার কামাল রবীন। বাঙ্গালীর সংস্কৃতি, বাঙ্গালীর ঐতিহ্যই পশ্চাৎপদ শক্তির বিরুদ্ধে মূল হাতিয়ার।


