লাইফ সাপোর্টে চলচ্চিত্রকার শহীদুল ইসলাম খোকন
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে চলচ্চিত্রকার শহীদুল ইসলাম খোকনকে। গুণী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। উত্তরার বাসায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, সর্বশেষ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসাপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে খোকনকে।
এছাড়াও তিনি বহুদিন ধরে মুখগহ্বরে মটর নিউরো ডিজিসে (এএলএস) আক্রান্ত। তার চিকিৎসায় সরকারের উদ্যোগে ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খোকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নায়িকা শাবানা, পরিচালক কবির আনোয়ার, বিএফডিসির সাবেক ল্যাব ইনচার্জ মতিন ও বাংলাদেশী এক দম্পতি সেতু-হ্যাপি। কিন্তু বেলভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই !এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
অক্টোবরের শেষ দিকে দেশে ফেরার পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ডা. আরেফিনের তত্ত্বাবধানে শহীদুল ইসলাম খোকনের পেটে অপারেশনের মাধ্যমে টিউব স্থাপন করা হয়। এ টিউব দিয়েই তিন ঘণ্টা পর পর তাকে খাওয়ানো হচ্ছিলো। একপ্রকার অনিশ্চিত জীবন-যাপন করছেন এক সময়ের সাড়া জাগানো এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।
শহীদুল ইসলাম খোকন ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক। চলচ্চিত্রের প্রতি তার এতটাই অনুরাগ ছিল যে ‘পালাবি কোথায়’ চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যায়সংকুলান করতে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের নিজের বাড়ি বিক্রি করে দেন! শহীদুল ইসলাম খোকন নির্মিত প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রক্তের বন্দি’। চলচ্চিত্রগুলি হলো লাল সবুজ, ঘাতক, ম্যাডাম ফুলি, বিপ্লব, সতর্ক, অকর্মা, লড়াকু, বজ্রমুষ্ঠি, বীরপুরুষ, শয়তান, , উত্থান পতন বিষদাঁত, টপ রংবাজ প্রভৃতি।


