পরিবেশ দিবস ২০২১ উপলক্ষে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
"বিল্ডিং করছি কেঁচো মরছে, পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, আমার কী?" বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অনুষদের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে এমন মন্তব্য করেন স্বনামধন্য মোটিভেশান স্পিকার সোলায়মান সুখন। রোববার (০৬ জুন) সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি সেটা ১০ হাজার বছরের ফল। আমরা মনে করি পৃথিবী শুধু মানুষের। আমরা পরিবেশকে শাসন করতে পারাকে অর্জন মনে করি। ১৯৫০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আট বিলিয়ন টন প্লাসটিক ব্যবহার হয়েছে। যেটার বিকল্প আছে কিন্তু আমরা করি না। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্রসমূহে পরিবেশকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল হয়। অধিকার আদায়ের আন্দোলন হয়। আমাদের এখানে বাড়ি, ফ্যাক্টরি কোনো কিছু প্ল্যান করে করা হয় না। সুতরাং শুরুটা নিজেকে করতে হবে। আমি চাইবো তরুণ প্রজন্ম এমন কিছু করবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোনো ক্ষতি হবে না।" তিনি আরো বলেন, "গাছ কেটে বিল্ডিং করতে পারাটা অর্জন না হয়ে গাছ লাগাতে পারাটা যাতে অর্জন হতে পারে।"উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম উপাচার্যের নেতৃত্বে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্র জলস্ফিতির সুবাদে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। উন্নত দেশগুলো সিএফসি নিঃসরণ করছে, বরফ গলছে। আর ভুক্তভোগী আমরা। অনেকে নদী-নালা, বন-জঙ্গল দখল করছে। প্রাণীদের আবাস দখল করে নিচ্ছে। এতে করে প্রাণীদের রোগ আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। সুতরাং “পরিবেশ ঠিক করতে হলে সকল জীব-জগৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।” অনুষ্ঠানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রস্তুত করার ঘোষণা দেন উপাচার্য।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সহ-সভাপতি মো. রায়হান আজাদ বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে প্রথমে নিজেদের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। আমরা চাইলেই অনেক গাছ লাগাতে পারি। কিন্তু মধ্য প্রাচ্য চাইলেই সেটা পারবে না। প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যদি পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরণের ব্যতিক্রমী অবদান রাখেন, তাদেরকে আগামী পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে পুরষ্কৃত করা হবে।” বিশেষ অতিথি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সদস্য মোঃ নরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “পরিবেশ দিবস শুধু ৫ জুনের জন্য নয়, বরং এটি প্রতিদিনের জন্য। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা হয়েছে এটি পরিবেশের জন্য সুখকর নয়।”
অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. ইফফাত জাহান বলেন, “আমারা পৃথিবীকে নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করে যাচ্ছি। আমাদের লাগামহীন চাহিদা এর জন্য দায়ী। অথচ আমাদের ধর্মেও সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকের এমন কিছু করা উচিত যাতে আমরা আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাই।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. মোকসেদ আলী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, “পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে গেছে সেটা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিবেশ ও উন্নয়ন কিছুটা সংঘর্ষিক। তারপরও বর্তমান সরকার সব সময় চেষ্টা করে পরিবেশের কম ক্ষতি করে উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত করে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রার ১৬৯টি অর্জনের মধ্যে ১৪০টি অর্জন নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর।”
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে “ইকোসিসটেম রিস্টোরেশন: প্রিভেন্টিং জেনোসিস সাস এজ কোভিড-১৯” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শুভময় দত্ত। এসময় একটি গবেষণার আলোকে বলেন, “ইকোসিসটেমের পরিবর্তনের কারণে ইবোলা, করোনার মতো ভাইরাসগুলো বাড়ছে। এসব ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে হাইজনিক হতে হবে এবং আমাদেও পরিবেশকে উন্নত করতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে মূকাভিনয় ও ডকুমেন্টারি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেইজবুক পেইজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।


