English Version
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০১৬ ১১:৪৯

নিরাপত্তার নামে রাবি হলে হয়রানি

সাকিব
নিরাপত্তার নামে রাবি হলে হয়রানি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলে ‘নিরাপত্তার নামে হয়রানি’র প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হলের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ওই হলের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, কয়েকদিন যাবত হলের আবাসিকতা ছাড়া হলের গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীসহ কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সিকিউরিটির শর্ত সাপেক্ষেও কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনেও আমাদের কোন বন্ধু বা আত্মীয় স্বজন হলে প্রবেশ করতে পারছেন না। অথচ অন্য কোন হলে এ নিয়ম নেই। হলের অধ্যক্ষ স্বৈরাচারিভাবে হলে এ নিয়ম করেছেন বলে জানান তারা।

এসময় হলে প্রবেশের এ নতুন নিয়ম বাতিলসহ ১১টি দাবি করেন তারা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের দেখাশুনার জন্য কমপক্ষে একজন আবাসিক শিক্ষককে হলে অবস্থান করতে হবে, হলের ডাইনিংয়ে নিরাপদ পানির সরবরাহ ও খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যান্য হলের ন্যায় বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহারে সুযোগ দিতে হবে, ওয়াইফাই সমস্যার সমাধান ও নেটরুম চালু করতে হবে, চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থানের সুযোগ দিতে হবে এবং হলের সার্বিক পরিবেশের উন্নতি করতে হবে।

তাদের অভিযোগ, হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৈাজন্যমুলক আচরন করেন, নোটিশ বোর্ডে নোটিশ না টানিয়ে কক্ষের সামনে ও হলের যত্রতত্র নোটিশ টানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

পরে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে যাথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই মতিহার হলে ‘শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে’ হলের ডাইনিং-এ শুধুমাত্র মতিহার হলের শিক্ষার্থীরা খেতে পারবেন এবং কক্ষে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে পারবে না বলে নোটিশ টানানো হয়। এছাড়াও ওই নোটিশে অন্য হলের শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তারপর থেকেই শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক মু. আলী আজগরের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।