সেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় তরুণীকে দু্ইদিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- সাটুরিয়া থানায় এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা সোমবার রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরে মঙ্গলবার ভোরে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, রোববার পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকী সোমবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড় ৮টার দিক ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরও জানান, চার সদস্য বিশিষ্ট এই মেডিকেল বোর্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি রির্পোট দিবেন বলে জানান।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পর্কে ওই তরুণীর এক খালা সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেনের কাছে জমি বিক্রির তিন লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা নিতে সাভারের নবীনগর থেকে গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে খালার সঙ্গে ওই তরুণী সাটুরিয়া থানায় যায়। সেখানে এসআই সেকেন্দারের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে সেকেন্দার তাদের দুজনকে সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হন সাটুরিয়া থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম। পরে দুজন মিলে অভিযুক্ত তরুণী ও তার খালাকে আলাদা কক্ষে আটকে রাখে। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে দুই রাত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে দুই এসআই। দুই দিন পর গত শুক্রবার সকালে খালাসহ ওই তরুণীকে ডাকবাংলো থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।


