চুরির অপবাদে শিশু নির্যাতন, অতঃপর হত্যার অভিযোগ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে টাকা চুরির অভিযোগে ফারুমা আক্তার (১০) নামের এক শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে পুলিশ চরকাঁকড়া ৪নং ওয়ার্ডের নাডাগো বাড়ী থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। সে ওই বাড়ীর দিনমজুর সাহাব উদ্দিনের মেয়ে ও চরকাঁকড়া আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিজ্ঞান পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় ফারুমা। পরে তাদের বাড়ীর মোস্তফার স্ত্রী মুন্নি বেগম তার টাকা চুরি হয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্কুলে গিয়ে ফারুমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরীক্ষা শেষে মুন্নি স্কুল আঙিনায় ফারুমাকে ব্যাপক মারধর করে ও জোর করে বাড়ীতে নিয়ে আসে। এসময় শিশুটির মা-বাবা কেউই বাড়ীতে ছিলনা।
সন্ধ্যায় ফারুমার বাবা বাড়ীতে এসে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ফারুমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে বিষয়টি থানায় অবগত করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারুমার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় বোন অভিযোগ করে বলেন, টাকার চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বাড়ীর ভাবি মুন্নি বেগম ফারুমাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য ঝুলিয়ে রেখেছে। তিনি এ হত্যার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসমাইল হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুমার মৃত্যুর বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পেয়েছেন। কেউ কেউ এ ঘটনাকে হত্যা আবার কেউ আত্মহত্যা বলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসাপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এবিষয়ে শিশুটির বাবা থানায় একটি মামলা করেছে।


